Templates by BIGtheme NET
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ
মডেল, সাংবাদিক আমির পারভেজ ও সাব ইন্সপেক্টর সাথিয়া আফরোজ ইথি

‘বাবা-মায়ের জন্যই আজ আমি এই অবস্থানে’ (ভিডিও)

নিউজ ডেস্ক:
নারী কখনো মা, কখনো বোন আবার কখনো স্ত্রী। হাজার সম্পর্কের মাঝে তাদের সঙ্গে আপনার আমার সম্পর্ক অন্যতম। ধর্মেও আছে নারীর সম্মানের স্থান। নিজেকে অন্যের সুখে হাসতে হাসতে বিলিয়ে দিতে পিছপা হন না এই নারী। তাই হয়তো একাই ভালোবাসে সমস্যা ও সমাধানের হালটি কাঁধে তুলে নিতে। নানা ঘাত-প্রতিঘাত পার করেই চলে এই নারীর জীবন।

আজ বলবো এক আলোকিত নারী সাথিয়া আফরোজ ইথির কথা। শুনব তার লাইফ জার্নির কথা। এই আলোকিত নারীর সঙ্গে কথা বলেছেন এই যুগের মডেল ও সাংবাদিক আমির পারভেজ।

সাথিয়া আফরোজ ইথি (সাব ইন্সপেক্টর, স্পেশাল ব্রাঞ্চ), বর্তমান পোস্টিং: এয়ারপোর্ট। গ্রামের বাড়ি জামালপুর। বাবা অ্যাডভোকেট। মা জব করেন। এক বোন দুই ভাই। তিনিই বড়, ছোট দুই ভাই। অনার্স, মাস্টার্স- ইডেন মহিলা কলেজ।

পুলিশে আসার গল্প …
পুলিশে আসাটা মূলত বান্ধবীর হাত ধরে। আগে থেকে পুলিশে আসার টার্গেট বা ইচ্ছা কখনো ছিল না। আমার স্কুল ফ্রেন্ড বন্না আর শম্পা। বন্না আছে আমার সাথে পুলিশে সাব ইন্সপেক্টর। মূলত ওদের কারণেই আমার পুলিশে আসা। ইডেনে আমি অনার্স মাস্টার্স করেছি। মাস্টার্স পরীক্ষা দেয়ার পর আমার ট্রেনিংয়ে যাওয়া। আগে থেকেই এরকম কোনো ইচ্ছা ছিল না। আমার বান্ধবী বন্না ও জাহাঙ্গীরনগর থেকে অনার্স মাস্টার্স করেছিলো। সে জবের জন্য আবেদন করছিল আমাকে হঠাৎ একদিন ফোন দিয়ে বলে সাব ইন্সপেক্টরের সার্কুলার হয়েছে আমি করবো তুই করবি কিনা? আমি অবাক হয়েছি যে, মেয়েরা পুলিশে চাকরি করে এমন চিন্তা কখনও আমার মাথায় আসে নাই বা আমি করবো ভাবিনি। বান্ধবী বলছিলো আমি আবেদন করছি তুইও আমার সঙ্গে করে ফেল। আমার সমস্ত কিছু ফরম ফিলাপ, অনলাইনে আবেদন সব ওই করে দিয়েছে।

মডেল, সাংবাদিক আমির পারভেজ ও সাব ইন্সপেক্টর সাথিয়া আফরোজ ইথি

লিখিত পরীক্ষার দিন আমি বাসায় জানাইনি। কারণ আমার ওরকম টার্গেট ছিল না যে আমি জব করবো। আমার একটা টার্গেট ছিল যে ব্যাংকে জব করবো। বান্ধবীর সঙ্গে রিটেন দিলাম বাসায় জানাইনি সেটা। লিখিত পরীক্ষায় টিকে গেলোম। পরীক্ষায় টিকে যাওয়ার পর একটা ভেরিফিকেশন হয়। বাসায় গিয়ে নিজ এলাকার যে পুলিশ ভেরিফিকেশন করে। আমার বাবা পুরোপুরি অবাক হয়েছে যে, আমার মেয়ে পুলিশে চাকরি ব্যাপারে তো কখনো কিছুই জানায়নি। বাবা মা কেউই রাজি ছিলেন না। পরে তারা রাজি হয়েছেন। তারপর যখন ভাইবার তারিখ পড়লো তখন আমার বান্ধবী বন্না বলছিলো যে আমি ভাইবা দিতে যাচ্ছি আমার সাপোর্ট দরকার তুই আমার সঙ্গে চল। তখন আমি ওর সঙ্গে গেলাম। আমি এডমিট কার্ডও নেইনি।

তারপর আমার পিছনে যারা ছিল তারা বললো আসছো যখন তখন ভাইবাটা দিয়ে যাও এতে তোমার লাইফে একটা এক্সপেরিয়েন্স হবে। তারপর ভাইবায় গেলাম এডমিট কার্ড ছাড়াই। স্যাররাও ভাইবা নিল। তারপর বললো যেহেতু তুমি এডমিট কার্ড আনোনি পরিচয় পাওয়া যায় এমন কিছু সঙ্গে আছে কিনা। পরে ব্যাগে ভোটার আইডি ছিল। ভোটার আইডি দেখালাম রেজাল্ট হলো চাকরি হয়ে গেলো।

সাব ইন্সপেক্টর ইথি আগে গান করতেন। কয়েকটি মিউজিক ভিডিও ও করেছিলেন তিনি।

সখের বসে গান করা প্রসঙ্গে…
ডিউটিরত অবস্থায় একদিন ইমিগ্রেশনে একজন পাশ দিয়ে যাচ্ছিল, তখন বলেছিলো আপনি মে বি একজন শিল্পী। আরেকজন থাইল্যান্ড থেকে এসেছে উনি জিজ্ঞাসা করলো আপু আপনি গান করেন কিনা? আমি বললাম হ্যাঁ। উনি বললো আমার ছোট ভাইয়ের মাধ্যমে আপনার গান ইউটিউবে শুনেছি। ভালো লাগে এসকল জিনিসগুলো। আমি আসলে মিডিয়ার সঙ্গে ওভাবে জড়িত না আবার প্রফেশনালি গানটা ওইভাবে করাও হয় না। টুকটাক যা করি সখের বসে করি। তারপরও অনেক জায়গায় অনেকে চিনে, অনেক মিডিয়ার সাথে ভালো সম্পর্ক আছে।

ছেলেবালার স্মৃতি …
আমি যখন ক্লাস টুতে পড়ি তখন থেকেই নাচ, গানের সঙ্গে জড়িত। নাচটাই বেশি করতাম। আমি যখন ছোট পাঁচ বা ছয় বছর তখন মা গান করতেন। হারমোনিয়াম নিয়ে রবীন্দ্র সঙ্গীত গাইতেন। তার পাশে বসে যখন আমি মায়ের সব গানগুলো শিখে ফেলতাম তখন মা মনে করলো এখন আমি কেনো গান করবো আমার মনে হয় মেয়েটাকেই গান করতে দেয়া উচিত। আর আমার বাবা জামালপুরের থিয়েটারে নাটক লিখেন ও পরিচালনা করেন। অর্থাৎ ফ্যামিলি থেকে কালচারাল ব্যাপারটা আমার মাঝে গড়ে নিয়েছিলাম। আর নাচটা করেছি এইচএসসি পর্যন্ত আর গানটাই কন্টিনিউ করেছিলাম।

মডেল, সাংবাদিক আমির পারভেজ ও সাব ইন্সপেক্টর সাথিয়া আফরোজ ইথি

সমাজ সেবামূলক কাজ…
ছোট থেকে রেডক্রিসেন্ট করেছি, গার্লস গাইড করেছি অনেক কিছুর সঙ্গে জড়িত ছিলাম। আমি একবার জেলায় শ্রেষ্ঠ গার্লস গাইড হয়েছিলাম। বাবা-মা ছোটবেলা থেকেই সবকিছুর সঙ্গে জড়িত রেখেছিল।

এই অবস্থান…
জীবনে যা কিছুই পেয়েছি তার সব কিছুই বাবা-মায়ের উৎসাহ উদ্দিপনার জন্য পেয়েছি। তাদের জন্যই আজ আমি এই অবস্থানে। এই ঋণ কখনো শোধ করে করতে পারবো কি না তা জানি না। তবে বন্ধু-বান্ধবীদের জন্যেও আমি আজকের ইথি হয়ে উঠতে পেরেছি। সবার সঙ্গ ছিলো বিধায় আজ আমি আছি। আল্লাহ-তাআলার অশেষ মেহেরবানি যে আমাকে এই উন্নতির শেখরে স্থান মিলেছে। সবার কাছে দোয়া চাই যেনো মানুষের জন্য কিছু করতে পারি। আর এখন কার যুগে নারীদের প্রতি বলবো… একটি অবস্থানে পৌঁছুতে পরিবারের সঙ্গ লাগেই। লাগে ইচ্ছা, আত্মবিশ্বাস আর সাহস। অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে মোকাবেলা এবং কখনো দৈর্য্য না হারানো।