Templates by BIGtheme NET
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ

গ্যাস্ট্রিক দূর করুন ঔষধ ছাড়াই

স্বাস্থ্যজ্ঞান: গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা অর্থাৎ পেট ও বুক জ্বলা-পোড়া বলে থাকি এটি মুলত গ্যাস্ট্রাইটিস বা পাকস্থলীর প্রদাহ। অনেকেই একে তেমন একটা পাত্তা দিতে চান না। তবে এই সামান্য পেট ও বুক জ্বলা এক সময় পেপটিক আলসার থেকে শুরু করে পাকস্থলির ক্যান্সার, এমনকি কোলন ক্যান্সারেও রূপান্তরিত হতে পারে।এর জন্য আপনাকে নিচের কয়েকটি ধাপ অনুসরণ করতে হবে। সম্পূর্ণ বিষয়টি নির্ভর করে আপনি কী খাচ্ছেন, কখন খাচ্ছেন, কিভাবে ঘুমাচ্ছেন ইত্যাদির মতো সাধারণ কিছু বিষয়ের উপর।

প্রচুর পানি পান
প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন। পানি পরিপাকে সহায়তা করে এবং অ্যাসিডের ঘনত্বকে পাতলা করে। প্রতিদিন অন্তত ১০-১২ গ্লাস পানি পান করুন।

অল্প করে বারে বারে খান
একবারে বেশি পরিমাণ খাবার না খেয়ে কয়েক বারে অল্প অল্প করে খাবার গ্রহণ করুন। এক সাথে বেশি পরিমাণ খাবার খেলে বেশি অ্যাসিড নিঃসরণ হয় যা অ্যাসিড রিফ্লাক্স সৃষ্টি করে। তাই প্রতিদিন তিনবেলা ভারী খাবারের পরিবর্তে ৫-৬ বারে অল্প অল্প করে খাবার গ্রহণ করুন।

কি খাচ্ছেন
আপনি সারাদিন কী খাচ্ছেন সে দিকে লক্ষ্য রাখুন। তেল, ভাজা-পোড়া, মসলাদার ও চর্বিযুক্ত খাবার পাকস্থলীর অ্যাসিড নিঃসরণ বাড়িয়ে দেয়। তাই তেল, ভাজা-পোড়া, মসলাদার ও উচ্চ চর্বিযুক্ত খাবার পরিহার করুন। এ ছাড়াও সাইট্রাস জাতীয় ফল যেমন- লেবু, কমলা, টমেটো ইত্যাদিও অ্যাসিড নিঃসরণ বাড়িয়ে দেয়। শুধু মুখের মজা লাগার জন্য এ সকল ফল বেশি পরিমাণে খাওয়া ঠিক হবে না। তবে প্রয়োজনীয় পরিমাণ অবশ্যই খেতে হবে।

সফট ড্রিংস বর্জন
সফট ড্রিংস বা কার্বোনেটেড পানীয় পান বর্জন করুন। কার্বোনেটেড পানীয় পাকস্থলীতে গিয়ে কার্বোনেটেড বাতাস তৈরি করে। এই কার্বোনেটেড বাতাসের কারণে অ্যাসিড পাকস্থলী থেকে উপর দিকে উঠে আসে এবং বুক ও গলায় জমা হয়ে থাকে। যার ফলে সৃষ্টি হয় বুক জ্বলা ও টক ঢেঁকুর ওঠা।

ঘুমান
রাতের খাবার খাওয়ার পরপরই ঘুমাতে যাবেন না। তাহলে অ্যাসিড রিফ্লাক্স বাস্তবিক অর্থেই দুঃস্বপ্ন হয়ে দেখা দিবে। খাবার গ্রহণের পরপরই ঘুমাতে গেলে পাকস্থলীতে অ্যাসিডের পরিমাণ বেড়ে যায় এবং তা জমা হয়ে থাকে যা পরবর্তীতে অ্যাসিড রিফ্লাক্স সৃষ্টি করে। রাতে ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে খাবার গ্রহণ করুন। রাতের খাদ্য তালিকা থেকে ভাজা-পোড়া ও মসলাদার খাবার বাদ দিন। খাবার পর শুগার-ফ্রি চুইংগাম চিবাতে পারেন। এতে লালার নিঃসরণ বাড়ে যা পাকস্থলীর অ্যাসিড কমাতে সাহায্য করে।

উচু বালিশে ঘুমান
সাধারণত রাতের বেলায় অ্যাসিড রিফ্লাক্স বেশি হয়ে থাকে। অনেকে রাতের বেলা ঘুম থেকে জেগে ওঠেন প্রচণ্ড বুক ব্যাথা ও বুক জ্বলা-পোড়া নিয়ে। অনেক সময় টক ঢেঁকুরও ওঠে। রাতে ঘুমানোর সময় মাথা ও বুক সামান্য উঁচুতে রাখুন পেটের তুলনায়। এর জন্য উঁচু বালিশ ব্যবহার করতে পারেন। এতে গ্যাস্ট্রিক অ্যাসিড সহজে উপর দিকে উঠতে পারবে না।

ঢিলেঢালা পোশাক পরিধান করুন
আঁটসাঁট পোশাক পাকস্থলীকে চেপে ধরে এবং অ্যাসিড নিঃসরণ বৃদ্ধি করে। তাই আঁটসাঁট পোশাক বাদ দিয়ে ঢিলেঢালা আরামদায়ক পোশাক পরিধান করুন।