Templates by BIGtheme NET
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ

ডাকসুতে হলে ভোটকেন্দ্র: ছাত্রলীগের ‘হ্যাঁ’, বাকীদের ‘না’

ঢাবি প্রতিনিধি:

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন আগামী ১১ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে।আসন্ন এ নির্বাচনে  ভোটকেন্দ্র হলেই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট। আর এ সিদ্ধান্তকে ছাত্রলীগ ইতিবাচকভাবে দেখলেও, বাকী ছাত্র সংগঠন গুলো নেতিবাচকভাবে দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে,যা সংশ্লিষ্ট ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।

মঙ্গলবার (২৯ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারক ফোরাম সিন্ডিকেট সভায় আবাসিক হলগুলোতে ভোটকেন্দ্র স্থাপনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে, যা ছিল অধিকাংশ ছাত্রসংগঠনের দাবির বিরুদ্ধে। ইতোপূর্বে ২৩ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ পরিষদের আলোচনায় ১৪ টি ছাত্র সংগঠনের মধ্যে  ১১ টি ছাত্র সংগঠন তাদের প্রস্তাবনায় একাডেমিক ভবনে ভোটকেন্দ্র স্থাপনের দাবি জানান ৷

অধিকাংশ ছাত্রসংগঠনের এমন দাবির পরেও ভোট কেন্দ্র হলে রাখার সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সেদিনই ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করে ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্র ফেডারেশনসহ বামপন্থি ছাত্র সংগঠনগুলোর মোর্চা প্রগতিশীল ছাত্রজোট।একইদিন রাতেই এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের প্রতি অসন্তোষ ব্যক্ত করেছেন কোটা আন্দোলনকারীদের প্লাটফর্ম ‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। ছাত্রদলের তরফ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না এলেও সাংবাদিকদের কাছে ক্ষোভ জানিয়েছেন তারাও।অন্যান্য ছাত্রসংগঠনের নেতারাও তাদের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে প্রতিবেদকের কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান মিন্টু  সিএসবিনিউজ২৪ কে বলেন , অধিকাংশ ছাত্রসংগঠনের বিরুদ্ধে গিয়ে প্রশাসন ছাত্রলীগের দাবি পূরণ করেছে ৷তারা জাতীয় নির্বাচনের মতো একটি প্রহসনের নির্বাচন দিতে চাচ্ছে। ডাকসু বলে আসলে কিছু হবেনা। শুধুমাত্র ছাত্রলীগের কিছু নেতাকর্মীদের ছাত্রলীগের পদ থেকে ডাকসুতে বসানো হবে।অধিকাংশ ছাত্রসংগঠনের দাবি মেনে নিয়ে এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করার সুযোগ এখনো বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আছে ৷ যদি তারা তাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন না করে, তাহলে ডাকসুর বিশ্বাসযোগ্যতা বা গ্রহণযোগ্যতা থাকবেনা।

একই সুরে কথা বলে আন্দোলনের হুমকিও দিয়েছেন প্রগতিশীল ছাত্রজোটের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সমন্বয়ক ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের (মার্ক্সবাদী) বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সালমান সিদ্দিকী।তিনি বলেন, আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করছি এবং ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছি ৷ সেইসাথে আমরা প্রশাসন কে বলতে চাই, আপনারা যদি ভোটকেন্দ্রকে হল থেকে একাডেমিক ভবনে স্থাপন করার সিদ্ধান্ত না নেন, তাহলে আমরা ছাত্রসমাজকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন গড়ে তুলবো।

একই বিষয়ে ছাত্র ইউনিয়ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি ফয়েজ উল্লাহ বলেন, এটা একটা একপক্ষীয় সিদ্ধান্ত। বেশির ভাগ ছাত্র সংগঠন এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবি ছিল ভোটকেন্দ্র হলের বাইরে করার। একইসঙ্গে সব ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীর সহাবস্থানও দাবি করেছিলাম আমরা।কিন্তু ভোটকেন্দ্র হলে রাখা হয়েছে। আমরা সিন্ডিকেটের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কর্মসূচি দিয়েছি,আর তা অব্যাহত থাকবে।

কোটা আন্দোলনকারীদের প্লাটফর্ম ‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খান বলেন, শুধুমাত্র ছাত্রলীগকে সুবিধা দিতে ভোটকেন্দ্র হলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রশাসন। কারণ সবাই জানে, হলে ছাত্রলীগের আধিপত্যের কথা, তারা সাধারণ শিক্ষার্থীদের সেখানে জিম্মি করে রেখেছে৷ তিনি আরো বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন যদি আমাদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা না করে, তাহলে আমরা আন্দোলনের দিকে যাবো।

অধিকাংশ ছাত্র সংগঠনের এমন বক্তব্যের সাথে দ্বিমত প্রকাশ করে  ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস বলেন, ‘ডাকসুর গঠনতন্ত্রে ভোটকেন্দ্র  হলেই থাকার কথা ছিল। হলে সর্বোচ্চ পরিমাণে শিক্ষার্থী থাকে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ কাজই হলকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়। এজন্য আমরা  চাই, ভোটকেন্দ্রের  বুথগুলো হলেই থাকুক।’ হলে বুথ হলে নির্বিঘ্নে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে বলেও  তিনি দাবি করেন।

প্রসঙ্গত, ১৯৯৪ সালেও ডাকসু নির্বাচনে ভোট কেন্দ্র একাডেমিক ভবনে বসানোর দাবি উঠেছিল। সেইবার এই দাবি তুলেছিল ছাত্রলীগ। আর তখন বিরোধিতা করেছে ছাত্রদল। আর সেইবার তফসিল ঘোষণা করা হলেও নির্বাচনের পরিবেশ না থাকার অভিযোগে ছাত্রলীগের বাধার মুখে শেষ পর্যন্ত নির্বাচন স্থগিত হয়। আর সে ঘটনার ২৫ বছর পর একই দাবি উঠলেও দাবিদার বদলে ছাত্রলীগের জায়গায় ছাত্রদল হয়েছে। বাম সংগঠন, কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরাসহ অধিকাংশ ছাত্র সংগঠন এবারের দাবির সাথে সহমতে রয়েছে, যা গণদাবিতে পরিণত হয়েছে।এ পরিস্থিতিতে ১১ মার্চ অনুষ্ঠেয় নির্বাচন পিছিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন অনেকেই।

নির্বাচনের ভোটকেন্দ্রের বিষয়ে ভিসি অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, সবার কথা বিবেচনা করে গঠনতন্ত্র দেখে সবকিছু করা হচ্ছে।নির্বাচন পেছাবে কিনা এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই।’

সিএসবি নিউজ২৪ মহিউদ্দীন/রাসেল