Templates by BIGtheme NET
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ

রাখাইনে ৫ গণকবরে মিললো ৪০০ লাশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নতুন করে আরও পাঁচটি গণকবরের সন্ধান পাওয়া গেছে। এসব গণকবরে ৪শ’র মতো মানুষকে চাপা দেয়া হয়েছে। এমন তথ্য দিয়ে খবর প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)।

বার্তা সংস্থাটি জানিয়েছে, মিয়ানমারে নতুন করে কিছু গণকবরের প্রমাণ তাদের হাতে এসেছে। এসব তথ্য-প্রমাণে দেখা যাচ্ছে গত আগস্ট মাসে সেনাবাহিনীর অভিযানে রাখাইন রাজ্যের গু দার পিন গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে।

এপির ভাষ্য অনুযায়ী, স্যাটেলাইটে পাওয়া চিত্রের সঙ্গে এবং বাংলাদেশের কক্সবাজার ক্যাম্পে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের বর্ণনা মিলে যাচ্ছে। স্যাটেলাইটের চিত্র এবং রোহিঙ্গাদের ভাষ্য অনুযায়ী অন্তত পাঁচটি গণকবরের সন্ধান মিলেছে।

এসব গণকবরে ৪শ’র মতো মানুষকে চাপা দেয়া হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। যে গ্রামটির কথা বলা হচ্ছে, সেখানে কাউকে প্রবেশ করতে দেয়নি মিয়ানমার সরকার। সুতরাং ওই গ্রামে আসলে ঠিক কতজন মারা গেছে তা পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।
বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস আরও বলছে, তারা ওই গ্রামের স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া কিছু ছবি সংগ্রহ করেছে। বাড়িঘর পুড়িয়ে দেবার কিছু ভিডিও এখন তাদের হাতে এসেছে।

কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বসবাসরত নেতৃস্থানীয় রোহিঙ্গারা ৭৫ জনের মৃত্যুর তথ্য একত্রিত করেছে। গ্রামবাসীরা বলছে, মৃতের সংখ্যা প্রায় ৪শ’র মতো হবে। এপি বলেছে, বাংলাদেশে অবস্থানরত যেসব রোহিঙ্গার সাক্ষাৎকার নেয়া হয়েছে, তাদের প্রায় সবাই বলেছে যে গু দার পিন গ্রামের উত্তরদিকের প্রবেশপথে তারা তিনটি বড় গণকবর দেখেছেন।

অল্প সংখ্যক রোহিঙ্গা জানিয়েছে, পাহাড়ের কাছে একটি কবরস্থানে তারা দুটি কবর দেখেছে। জায়গাটি গ্রামের একটি স্কুলের কাছাকাছি। গ্রামে হত্যাকাণ্ড চালানোর পর ১শ’র বেশি সেনা ওই স্কুলে তাদের ঘাঁটি গেড়েছিল।

ওই গ্রাম থেকে যেসব রোহিঙ্গা পালিয়ে এসে জীবন বাঁচিয়েছে, তাদের ধারণা আগস্ট মাসের ২৭ তারিখের হত্যাকাণ্ড ছিল বেশ পরিকল্পিত। হত্যাকাণ্ড চালানোর জন্য সেনারা শুধুই রাইফেল, ছুরি, গ্রেনেড ও রকেট লঞ্চার আনেনি, সঙ্গে অ্যাসিডও নিয়ে এসেছিল। অ্যাসিড দিয়ে নিহতদের মুখমণ্ডল ও শরীরের অংশ ঝলসে দেয়া হয়, যাতে তাদের চিহ্নিত করা না যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ২০০ সেনা ওই হত্যাযজ্ঞে অংশ নিয়েছিল।