Templates by BIGtheme NET
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ

স্কুলে যেতে চায় বিরল রোগে আক্রান্ত মুক্তা

বিশেষ প্রতিবেদন: সুস্থ হয়ে স্কুলে যেতে চাই। অন্যদের মতো বড় হতে চাই। দেশের মানুষের সেবা করতে চাই। আপনাদের মাধ্যমে সবার কাছে দোয়া চাই। প্রধানমন্ত্রীকে অনেক ধন্যবাদ জানাই।

সাতক্ষীরার সদর থানার কামার বাইশা গ্রামের মুদি দোকানদার মোহাম্মাদ ইব্রাহিমের জমজ মেয়ে বিরল রোগে আক্রান্ত মুক্তামনি এসব কথা বলেন।

গত মঙ্গলবার সকাল ৯ টায় ঢামেকের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে ভর্তি করা হয় তাকে। পরে ঢামেক বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের প্রকল্প পরিচালক ডা. শামন্ত লাল সেন এবং বার্ন ইউনিটের বর্তমান পরিচালক অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ প্রাথমিকভাবে তার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন।

ঢামেক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বুধবার মুক্তা মনির চিকিৎসার বিষয়ে একটি বোর্ড গঠন করে তার চিকিৎসার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তার মা আছমা বেগম জানান, ডাক্তার শ্যামান্ত লাল সেন নিয়মিত তার মেয়ের খোঁজ খবর নেন। খাওয়ার অভ্যাসের প্রশ্নে মুক্তার মা আসমা বেগম জানান, তার খাবার রুচি আগের চেয়ে অনেক উন্নতি হয়েছে।

প্রতিদিন বেশকিছু ওষুধ সেবন করানো হয় মুক্তাকে। তার মা এ ব্যাপারে কিছুই জানেন না। নার্সরাই তাকে সবসময় সহায়তা করেন।

হাসপাতালে ভর্তির পর সরকারের পক্ষ থেকে দেয়া বিশ হাজার টাকা দিয়ে তাকে প্রয়োজনীয় ‍ওষুধ ক্রয় করে খাওয়ানো হচ্ছে বলে জানান মুক্তার বাবা মোহাম্মদ ইব্রাহীম।

মুক্তার মায়ের ভাষ্যমতে, কোন খরচই করতে হয়না তাদের। প্রতিদিনের খাবার হাসপাতাল থেকে সরবরাহ করা হয়। এমনকি আসমা বেগমের কাছে মুক্তার প্রেসক্রিপশনটাও নেই। সবকিছু নার্সরাই দেখেন। কোন সমস্যা দেখা দেয়ার আগেই নার্সরা এসে খবর নিচ্ছেন।

মুক্তা জন্মের সময় তার আরেক বোন হিরামনিও জমজভাবে জন্ম নেয়। সে এখন চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে। তার ছোট ভাই সাড়ে তিন বছর বয়সি আলাল।

তার নিকটজনরা তাকে রক্ত দিয়েও সহায়তা করছেন। শারীরিক নানা অসুস্থতার অবসান হলেই দুই সপ্তাহ পরে অপারেশন করা হবে মুক্তার হাতের। এদিকে আগে থেকেই ব্যাপক পুষ্টি সংকটে ভূগছে মুক্তা।

সবধরনের খাবার খেতে পারবে ১২ বছর বয়সী মুক্তা। তবে তাকে পুষ্টি জাতীয় খাবার বেশি বেশি খেতে নির্দেশনা দিয়েছেন তার চিকিৎসায় নিয়োজিত ডাক্তাররা।

মুক্তার ডান হাতের কাধ থেকে নখ পর্যন্ত যে পরিমাণ ওজন, তার গোটা শরীর মিলেও সেই পরিমাণ ওজন হবে না বলে জানান তার মা আছমা বেগম। ওই হাতে সবসময় ব্যাথা করে, চুলকায় ও ভিতরে কামড়ের ব্যাথায় সবসময় চিৎকার করে।

হাসপাতালে ভর্তির পর রোগাক্রান্ত পুরো স্থান পরিস্কার করে ব্যান্ডেজ দিয়ে বেঁধে দিয়েছে ডাক্তার। বাড়িতে থাকতে ওই স্থানে ব্যাপক দুর্গন্ধ হতো। তবে চিকিৎসা শুরু হওয়ার পর থেকে গন্ধ কমেছে বলে উল্লেখ করেন তার মা আছমা বেগম।

মুক্তার জন্মের দেড় বছর পর থেকে তার বিরল এই রোগের শুরু। আস্তে আস্তে তার হাত মোটা হতে থাকে। উপরের অংশ কালো খসখসে হতে থাকে।

তবে দুই সপ্তাহ পর অপারেশন হলেও তাকে হাসপাতালের বেডে দিন গুনতে হবে আরো বছর খানেক। এই সময়ের মধ্যে অপারেশন হবে মোট ৩ থেকে ৪ বার।

আসমা বেগমের ভাষ্য মতে, মুক্তার এই সমস্যা শুরুর পর থেকেই খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাটসহ অনেক হাসপাতালেও তাকে চিকিৎসা করানো হয়েছে। কোন উন্নতি হয়নি। এমনকি ঢাকা মেডিকেলেও তাকে আনা হয়েছিলো। উন্নতি না হওয়ায় আবার তাকে বাড়িতে ফেরত নেয়া হয়।

সম্প্রতি কিছু গণমাধ্যমে মুক্তার বিরল রোগের চিত্র তুলে ধরা হলে সরকারের কর্তাব্যক্তিদের নজরে আসে। এরপর তার চিকিৎসার দায়িত্ব গ্রহণ করে স্বাস্থ্য অধিদফতর।

গণমাধ্যমের কল্যাণে মুক্তাকে এখন পুরো বিশ্বের মানুষ চেনে জানিয়ে দেশ-বিদেশের সবার কাছে তার জন্য দোয়া চেয়েছেন মুক্তার মা আসমা বেগম।

মুক্তার চিকিৎসায় নিয়োজিত ডা. শামন্ত লাল সেনের সঙ্গে কথা বলতে তার দফতরে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।