Templates by BIGtheme NET
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ

কেরমানের ঐতিহাসিক নিদর্শন দেখতে ছুটছেন পর্যটকরা

প্রমোদতরী: ইরানের দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলীয় কেরমান প্রদেশ। যার আবহাওয়া বেশ বৈচিত্র্যময়। এই প্রদেশটি ঐতিহাসিক দিক থেকে যেমন ইরানের প্রাচীনতম শহরগুলোর একটি। তেমনি স্বাভাবিকভাবেই এ এলাকায় রয়েছে প্রাচীন বহু নিদর্শন। বলা হয়ে থাকে ইরানের ঐতিহাসিক পাঁচটি শহরের মধ্যে একটি হলো কেরমান। পর্যটকদের কাছে দিনদিনই আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে এসব ঐতিহাসিক নিদর্শন।

দৃশ্যত কারণেই গোটা প্রদেশজুড়েই পর্যটন বিকাশের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে কেরমানের প্রাদেশিক কর্মকর্তারা। পাশাপাশি তারা প্রদেশের বিভিন্ন পর্যটন সম্ভাবনাগুলোকে পর্যটকদের সামনে তুলে ধরছেন। প্রদেশের তেমনই একটি দর্শনীয় পর্যটন স্পট ‘দাসত-ই লুত’ মরুভূমি। পৃথিবীর ভূপৃষ্ঠের ওপরে সবচেয়ে উষ্ণতম এ জায়গাটি কেরমান ও সিস্তান-বালুচিস্তান প্রদেশে অবস্থিত।

ইরান ডেইলির প্রতিবেদনে বলা হয়, লুত মরুভূমিতে একটি ম্যারাথন দৌড় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এতে বিশ্বের শীর্ষ দৌড়বিদরা অংশ নেবেন। সাত দেশের পর্যটক ও দৌড়বিদরা বিশ্বের সবচেয়ে উষ্ণতম এই স্পটে দ্বিতীয় বৃহত্তম ম্যারাথনে অংশ নিতে ইতোমধ্যে ইরানে যাওয়া শুরু করেছেন।

উত্তপ্ত লুত মরুভূমির গ্যান্ডোম-ই বেরিয়ান অঞ্চলে ৮০ কিলোমিটার হেঁটে পাড়ি দেওয়ার লক্ষ্যে আগামী ২১ জুলাই ইরান ভ্রমণ করবেন ইতালির একজন পরিবেশবান্ধব পর্যটক। আর তিনি এমন সময় সেখানে হাঁটবেন যখন সেখানকার তাপমাত্রা ৬৫ ডিগ্রি থেকে ৭০.৭ ডিগ্রি পৌঁছায়। অন্যদিকে, ওই পর্যটকের কৃতিত্ব রেকর্ডের জন্য তারই সঙ্গী হিসেবে থাকবেন গিনির দুই বিশেষজ্ঞ।

প্রতিবেদন আরও বলছে, বেসরকারি খাতের উদ্যোগেও কেরমানে পর্যটকদের জন্য গেস্ট হাউজ ও বাসস্থান নির্মাণ করা হয়েছে। প্রদেশজুড়ে রয়েছে ১১০টি পরিবেশবান্ধব রিসোর্ট। এসব রিসোর্টগুলোতে বিদেশি পর্যটকদের আন্তরিকভাবে অভ্যর্ত্থনা জানানো হচ্ছে। সেখানে বিদেশি পর্যটকদের ভ্রমণের হার দিনদিনই উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, এমনটাই বলছে পরিসংখ্যান।

কেরমানের সংস্কৃতি, হস্তশিল্প ও পর্যটন ঐতিহ্য বিভাগের প্রধান মোহাম্মাদ জাহানশাহি বলেন, কেরমানের জন্য প্রায় ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পর্যটন প্রকল্প বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রকল্পটি বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। রান্নাবান্না ও পাচনে ব্যাপক বৈচিত্র্যতা কেরমানের গর্ব বলে মন্তব্য করেন বিমান পরিবহন ও পর্যটক সংস্থা সমিতির সভাপতি।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কেরমান প্রদেশজুড়ে পর্যটন বিকশিত হচ্ছে। ব্যাপক প্রচারণায় মাহান, রায়ান, বাম ও জিরোফ্টি এলাকাগুলি পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। ইরানের অন্যতম প্রধান পর্যটনসমৃদ্ধ কেরমানে সাত হাজার ঐতিহাসিক ও প্রাকৃতিক স্থান রয়েছে। এরমধ্যে সাতশ’টি জাতীয় ঐতিহ্য তালিকায় নিবন্ধিত হয়েছে।

কেরমানের লোকজন বেশ কর্মক্ষম এবং কঠোর পরিশ্রমী, শান্ত এবং অতিথি পরায়ণ। প্রদেশের আরো একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য হলো এখানকার আবহাওয়া। বেশ রহস্যময় আবহাওয়া বিরাজ করে এখানে। একই এলাকার বিশাল অংশ জুড়ে উষ্ণ বা গরম আবহাওয়া বিরাজ করে, আবার তার পাশেই আশ্চর্যজনকভাবে বিরাজ করে বেশ উপভোগ্য ঠাণ্ডা আবহাওয়া। একই এলাকায় একই সময়ে এরকম আবহাওয়াগত বৈচিত্র্য সত্যিই প্রকৃতির এক বিস্ময় বৈ তো নয়।

অন্যদিকে, যেহেতু ইরানের প্রাচীন এলাকাগুলোর একটি এই কেরমান, সে কারণে সামাজিক, ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক ইত্যাদি সকল দিক থেকেই বেশ সমৃদ্ধ অঞ্চল এটি। যেখানে মানব বসতি ছিল সেখানে স্বাভাবিকভাবেই মানুষের জীবনযাপনের বিভিন্ন দিকের নানা বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠবে, ফুটে উঠবে সেখানকার শাসনব্যবস্থার ঐতিহাসিক দিক, নানা প্রতিষ্ঠানের ধ্বংসাবশেষ, পুনর্গঠনের নমুনাসহ আরো বহু দিক। কেরমানে এর সবই সুন্দরভাবে পরিলক্ষিত হয়।

এছাড়া কেরমান প্রদেশে রয়েছে বিচিত্র খনিজ সম্পদ। ধাতব এবং অধাতব উভয় ক্ষেত্রেই ব্যাপক খনিজ সম্পদের উৎস থাকায় ইরানের খনিজ সম্পদ সমৃদ্ধ অন্যতম একটি এলাকার মর্যাদা লাভ করেছে কেরমান প্রদেশ। এখানকার উল্লেখযোগ্য খনিজ পদার্থের মধ্যে রয়েছে তামা, কয়লা, আকরিক পাথর যা থেকে লোহা তৈরি হয়, ক্রোমাইট পাথর, সীসা, যিংক, টিটানিয়াম এবং ম্যাংগানিজ জাতীয় খনিজ পদার্থ। ইরানের প্রায় সকল প্রদেশেই পাহাড় রয়েছে। কেরমান প্রদেশটিও তা থেকে ব্যতিক্রম নয়। এখানে রয়েছে পাহাড়ের পর পাহাড়। যার ফলে কিছুটা উঁচুও বলা চলে প্রদেশটিকে। পাহাড় ছাড়াও এখানে আছে নদীর পর নদী, অসংখ্য ঝর্ণাধারা, প্রচুর ফোয়ারা আরো অনেক কিছু।

কেরমান প্রদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নদী হলো ‘হালিলরুদ’ নদী। বেশ কটি শাখানদীও এসে ভিড়েছে হালিলরুদের সাথে। এগুলো হলো যারদাশ্‌ত নদী, বফ্‌ত, রবার, তিল এবং এস্ফান্দাকেহ। এই নদী জিরুফ্‌ত এবং কাহনুয শহরের তৃষ্ণা মিটিয়ে হমুন জযমুরিয়ন শহরে প্রবেশ করেছে। যে যে এলাকা দিয়ে বয়ে গেছে এই নদী সেইসব এলাকা সবুজে শ্যামলে ভরে গেছে।