Templates by BIGtheme NET
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ

বিরল রোগে আক্রান্ত মুক্তামনি ঢামেকে

স্বাস্থ্যজ্ঞান: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার কামারবাইশা গ্রামে বিরল রোগে আক্রান্ত ১২ বছরের কিশোরী মুক্তামনিকে এবার উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার সকাল ৯টায় ঢামেকের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে ভর্তি করা হয় তাকে।

পরে ঢামেক বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের প্রকল্প পরিচালক ডা. শামন্ত লাল সেন এবং বার্ন ইউনিটের বর্তমান পরিচালক অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ প্রাথমিকভাবে তার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন।

ঢামেক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বুধবার মুক্তা মনির চিকিৎসার বিষয়ে একটি বোর্ড গঠন করে তার চিকিৎসার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে মুক্তার এই বিরল রোগের খবরটি উঠে আসে। তার ডান হাতটি অনেকটা গাছের বাকলের মতো হয়ে উঠেছে।

মুক্তামনির বাবা ইব্রাহীম হোসেন জানান, দাম্পত্য জীবনে তিনি দুই যমজ কন্যা ও এক পুত্র সন্তানের জনক। তার দুই যমজ সন্তানের মধ্যে হীরামনি বড় ও মুক্তামনি ছোট। জন্মের প্রথম দেড় বছর ধরে ভালোই ছিল হীরামনি ও মুক্তামনি। কিছু দিন পর মুক্তামনির ডান হাতে একটি ছোট মার্বেলের মতো গোটা দেখা দেয়। এরপর থেকে তা বাড়তে থাকে। সঙ্গে চলে স্থানীয় চিকিৎসাও। দেখলে মনে হবে গাছের বাকলের (ছালের) মতো ছেয়ে গেছে পুরো হাতটি। আক্রান্ত ডান হাত তার দেহের সব অঙ্গের চেয়েও ভারী হয়ে উঠেছে। ভেতরে পোকা জন্মেছে। বিকট যন্ত্রণায় মুক্তামনি সব সময় অস্থির। ডাক্তার বলছেন, এ ব্যাধি তার দেহের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ছে।

ইব্রাহীম হোসেন জানান, মুক্তার সারাদেহে রোগ ছড়িয়ে পড়েছে। তার শরীর শুকিয়ে যাচ্ছে। শুধু হাতের ভার বাড়ছে। দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে দেখানো হয়েছে মুক্তা মনিকে। কেউ কোনো সঠিক চিকিৎসা দিতে পারেননি। রোগের মাত্রা শুধু বেড়েই চলেছে। হতাশ বাবা ইব্রাহীম গত ছয় মাস যাবত চিকিৎসাবিহীন অবস্থায় মুক্তাকে বাড়িতে রেখে কেবল ড্রেসিং করছেন।