Templates by BIGtheme NET
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ

আপনার সোনামনির ঘরটি কেমন হবে!

নিউজ ডেস্ক: সংসারের ছোট্ট শিশু সবার আদরের। শিশুটি হাসিখুশি থাকলে আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে সবার মাঝে। তার এই আনন্দিত মূহূর্ত উপভোগ করা যায় তাকে একটি সুন্দর সাজানো-গুছানো ঘরের মধ্যে রাখলে। কারণ সুন্দর সাজানো ঘর শিশুর সবচেয়ে পছন্দের জায়গা।

নিজের ঘর থেকে শিশুর ঘরটি হওয়া চাই আকর্ষণীয়। এটি সাজাতে হবে পরিপাটি করে। খেয়াল রাখতে হবে বাচ্চাদের ঘর একটু নোংরা বেশি হয়। তাই কেমন হবে তাদের ঘরের দেয়াল ও আসবাবপত্র আসুন জেনে নেই।

ঘরে রঙের মেলা
শিশুদের ঘরে সবচেয়ে জরুরি হচ্ছে রঙের ব্যবহার। যে কোন উজ্জ্বল রঙ যেমন লাল, নীল, সবুজ, হলুদ ব্যবহার করতে পারেন। ফার্নিচারেও করতে পারেন এর সঙ্গে মানানসই রঙ। অন্যান্য জিনিসপত্রেও থাকবে রঙের ছোয়া।

দেয়াল সজ্জা
ঘরের ভেতর ঢুকতেই প্রথমে যা চোখে পরে তা হচ্ছে ঘরের দেয়াল। সেই ক্ষেত্রে আপনি আপনার সন্তানের পছন্দের কার্টুন চরিত্র দিয়ে ফুটিয়ে তুলতে পারেন তার ঘরের দেয়ালটি। নকশার ওয়াল পেপারের চেয়ে রূপকথাভিত্তিক ওয়াল পেপার বা কার্টুনের কোনো চরিত্র বা জীবজন্তুর ছবি দেয়া,পাখি বা মাছের ছবি এগুলো শিশুদের ঘরে বেশি আকর্ষণীয় হবে।

পর্দা
পর্দার ক্ষেত্রে যতটা সম্ভব হাল্কা রঙ ব্যবহার করতে পারেন। সুতি বা কটন কাপড়ের পর্দা নির্বাচন করতে পারেন। এতে সহজেই ঘরে আলো বাতাস যাবে।

আসবাবপত্র
শিশুর ঘরের আসবাব পত্রের রঙ হবে উজ্জ্বল। আসবাবপত্র হবে অনেকটা খেলার মত। অপ্রয়োজনীয় আসবাবপত্রগুলো গুছিয়ে অন্য কোথাও রাখুন। ছোঁয়া, মজার মজার কার্টুন আকারের কোনো আসবাব বেছে নিতে পারেন শিশুর ঘরের জন্য।

বিছানার চাদর
বিছানার চাদর আরামদায়ক না হলে শিশুর ঘুম ভালো হবে না এবং শিশুটির মেজাজ সব সময় খিটখিটে হয়ে থাকবে। রঙের ক্ষেত্রে রঙ যেমন সাদা, হাল্কা সবুজ, গোলাপি, হাল্কা নীল এ সব রঙ নির্বাচন করা।

খেলার জায়গা
আপনার শিশুর ঘরের এক পাশে খেলার জিনিসপত্র দিয়ে আলাদা একটি জগৎ তৈরি করুন। সেখানে একটি মাদুর বিছিয়ে রাখতে পারেন যাতে বাচ্চারা সেটার ওপর বসে খেলতে পারে।

গাছ লাগান
শিশুর ঘরের ভেতর বনসাই গাছ লাগাতে পোরেন। আপনার শিশুটির ঘরটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠবে।

লাইব্রেরি
ঘরের একদিকের দেওয়ালে বই রাখার ব্যবস্থা করে দিন৷ ছোট খেকেই ওদের পড়ার অভ্যাস তৈরি করতে হবে৷ দেখবেন ওরা যেন নাগালের মধ্যে পায়৷ ঘরের দেওয়ালে না হলে আলাদা করে বুক স্টোরেজ বানিয়ে দিন।

আলো-বাতাস
বাচ্চাদের ঘরে জোড়ালো আলো হলেই ভালো হয়, কারন কম আলোয় ওদের পড়াশোনা করতে অসুবিধে হবে৷ ওয়াইট কালার লাইট একদম পারফেক্ট কিড্স রুমের জন্য৷

স্টোরেজ
জামাকাপড় এবং অনান্য জিনিস স্টোর করার জন্য মাল্টি পকেট অর্গানাইজারের ব্যবস্থা করুন৷ যাতে এক জায়গাতেই সব জিনিস পাওয়া যায়৷

বাচ্চার ঘরের সাজ কেমন হবে, সেটা নির্ভর করে শিশুটি ছেলে না মেয়ে তার ওপর। আপনি আপনার শিশুর ঘরটি ইন্টেরিয়র করতে পারেন তাহলে দেখবেন সেই ঘরটি শিশুর কাছে হয়ে উঠবে আকর্ষণীয় এবং সবচেয়ে পছন্দের জায়গা।

মেয়েদের ঘর সাজানোর সময় বার্বিডল, ডিজনি প্রিন্সেস, টেডি বিয়ার এবং ছেলেদের ঘরের জন্য ব্যাটম্যান, স্পাইডার ম্যান, মিকিমাউস ইত্যাদি ক্যারেকটারকে প্রধান্য দেওয়া ভালো।

সবচেয়ে ভালো হয় যদি বাচ্চার তৈরি জিনিসপত্র দিয়েই গড়ে তোলেন ওর ক্রিয়েটিভ ইন্টেরিয়র। ওর আঁকা ছবি মজার ফ্রেমে ভরে টাঙিয়ে দিন দেওয়ালে। স্কুলে ওয়ার্ক এডুকেশনের কাসে তৈরি টুকিটাকি সাজিয়ে দিতে পারেন বুক শেলফে। আপনার সোনামনির পছন্দ আপনাকেই বুঝার চেষ্টা করতে হবে। কারণ ছেলে হোক মেয়ে হোক আপনার সোনামনির প্রথম বন্ধুটিই আপনি।