Templates by BIGtheme NET
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ

অ্যাজমার চিকিৎসায় করণীয়

স্বাস্থ্যজ্ঞান: অ্যাজমা হচ্ছে ফুসফুসের শ্বাসনালির প্রদাহ। দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহ হয়। এতে করে শ্বাসনালি সরু ও সংকুচিত হয়ে আসে। শ্বাসকষ্ট হয়। শ্বাসকষ্টের আরো অনেক কারণ রয়েছে। তবে অ্যাজমা হলে শ্বাসকষ্ট হয়। সাধারণত শ্বাসনালি সরু হয়ে অ্যাজমা হয়। দীর্ঘমেয়াদি এর চিকিৎসা নেওয়ার প্রয়োজন হয়ে পড়ে।

অ্যাজমার কারণে শ্বাসকষ্ট হলে বোঝার উপায়
এ ক্ষেত্রে প্রথমে রোগীর ইতিহাস জানতে চান ডাক্তাররা। এদের কারো শ্বাসকষ্ট থাকে, কারো কাশি থাকে, কারো বুকে চাপ অনুভব করে, কারো বাঁশির মতো শব্দ হয়। অনেকের আবহাওয়াগত কারণে হয়। অনেকের পরিবারে অ্যাজমার ইতিহাস থাকে। এরপর কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানা যায়।

কিভাবে অ্যাজমা নিশ্চিত হয়
রোগীর ইতিহাস নেওয়ার পর তার সংবেদনশীল কিছু আছে কি না এরপর শারীরিকভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হবে। রোগীর শ্বাসনালিতে যে বাতাস প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, সেটা স্টেথিসস্কোপ দিয়ে বুঝা যাবে। কিছু শারীরিক পরীক্ষা করে বুকের একটি এক্স-রে করতে হবে। এ ধরনের শ্বাসকষ্টে শ্বাসনালি বন্ধ হচ্ছে, আবার খুলে যাচ্ছে। কারো এমনি খুলে যায়, কারো ওষুধ দিয়ে পরীক্ষা করতে হয়।

শ্বাসকষ্টে যারা বেশি আক্রান্ত হয়
অ্যাজমা বা হাঁপানি বাচ্চাদের বেশি হয়। বয়স্কদের হতে পারে। বংশগতভাবে থাকলে হতে পারে। পারিপার্শ্বিকতাও কারণ হিসেবে কাজ করে। পরিবেশগত কারণে বিশেষ কিছু অ্যালার্জি, যেমন- পোলেন, ধুলাবালি, ফুলের রেণু, বাড়িতে কীটপতঙ্গ বা তেলাপোকার বিস্তার। অথবা শখ করে কেউ কুকুর বা বিড়াল পোষেন, এগুলোর পশম। গরু-ছাগলের বিষ্ঠা, খরকুটো।

রোগী কিসে সংবেদনশীল বোঝার উপায়
সংবেদনশীলতা নির্ণয়ের জন্য অ্যালার্জি পরীক্ষা রয়েছে। এর মাধ্যমে সংবেদনশীলতা বুঝা যায়।

রোগীরা কী ধরনের সমস্যা পড়েন
বেশিরভাগ লোকজন যে আসে, তারা কাশি, শ্বাসকষ্ট , কারো বুকের ভেতর খুব চাপ অনুভব করে। কারো বুকের মধ্যে বাঁশির মতো শব্দ হয়। শিশুদের ক্ষেত্রে অভিভাবকরা বলেন যে আমার বাচ্চার শ্বাসকষ্ট হচ্ছে। শ্বাস নিতে পারছে না। জোরে জোরে শ্বাস নিচ্ছে। কাশছে।

ডাক্তারের করণীয়
এটা তো কোনো জীবাণুঘটিত রোগ নয়। এটি হলো দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহ। এ জন্য এর প্রতিরোধের দিকে বেশি জোর দিতে হয়। নেবুলাইজার দিয়ে তাকে সুস্থ করা। এ ক্ষেত্রে অক্সিজেন লাগে। অক্সিজেন দিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ে রক্ষা করা। যে রোগী যে বিষয়ে বেশি সংবেদনশীল, তাকে সেটি থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করা।

অ্যাজমা শিক্ষাটা হলো মূল। চিকিৎসা সম্পর্কে সচেতন করতে হবে যে এটি নিলে আপনার শ্বাসকষ্ট কমে যাবে। আর ট্যাবলেট ব্যবহারে কষ্ট প্রশমিত হতে একটু সময় লাগবে। আর ইনহেলার যদি আমি সরাসরি শ্বাসনালিতে দেয়া হয়, তাহলে সমস্যাটা কমে যাবে। দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। এটিই রোগীর জন্য উপযোগী।

প্রথমে রিলিভার হিসেবে নেবুলাইজার সালবিউটামল দিতে হবে। যারা স্বল্পমেয়াদি শ্বাসকষ্ট নিয়ে আসছেন, তাদের অক্সিজেন দেয়া হয়। এর পর তাকে এক ধরনের ইনজেকশন দেয়া হয়। যেন প্রদাহটা কমে। দীর্ঘমেয়াদি ইনহেলার হিসেবে কটিকস্টেরয়েড জাতীয় ইনহেলার দেয়া হয়। ইনহেলারের সঙ্গে কিছু ওষুধ থাকে। প্রদাহের জন্য কিছু রাসায়নিক দায়ী। এ জন্য মন্টিলুকাস ট্যাবলেট ব্যবহার করতে হবে।

ইনহেলার দীর্ঘমেয়াদি, অনেক দিন ব্যবহার করলে রোগী ভালো থাকবে। স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারবে। তবে দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহার করতে হবে।