Templates by BIGtheme NET
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ

রোহিঙ্গা-বাংলাদেশিদের জম্মু ছাড়ার দাবিতে পোস্টার

জম্মু: রোহিঙ্গা মুসলিম ও বাংলাদেশি শরণার্থীদের রাজ্য ছাড়ার দাবি জানিয়ে পোস্টার লাগানো হয়েছে ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মুতে।‘কুইট জম্মু’ নামে বিলবোর্ড ঝুলানো হয়েছে রাজ্য জুড়ে। এসব পোস্টার-বিলবোর্ড ঝুলিয়েছে শরণার্থী বিরোধী প্রচারাভিযানে নেতৃত্ব দেয়া দল জম্মু ও কাশ্মির ন্যাশনাল প্যান্থার পার্টি (জেকেএনপিপি)।

দলটি মনে করে শরণার্থীরা জম্মু শহরের সুন্দর্য্য নষ্ট করছে। সংবিধানের ৩৭০ অনুষ্ছেদ মতে, সরকারকে জম্মু ও কাশ্মিরে অভিবাসীদের পুনর্বাসনের অনুমতি দেয়া হয়নি।

জেকেএনপিপি প্রধান হর্ষদেব সিংহ কাশ্মির লাইফকে বলেন, ‘তারা কীভাবে তাদেরকে এখানে পুনর্বাসন করেছে? তাদের অতিসত্তর জম্মু ত্যাগ করা উচিত। তার দল শরণার্থীদের বিরুদ্ধে শিগগিরই নতুন করে প্রতিবাদ শুরু করবে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, এব্যাপারে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই চুপ রয়েছে। কিন্তু আমরা চুপ থাকব না।

অতীতেও দলটি শরণার্থীদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছে। শরণার্থীদের পুনর্বাসনকে দলটি সেখানকার দোগরাস সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র বলে মনে করে। অর্থাৎ স্থানীয় দোগরাসদের সংখ্যালঘু করে রাখতেই পুসর্বাসন করা হচ্ছে এমন দাবি তাদের।

ভারতীয় গনমাধ্যম স্ক্রোলডটইনের খবরে বলা হয়, ২০ জানুয়ারি বিধানসভায় জম্মু-কাশ্মিরের মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি জানান, রাজ্যের জম্মু ও সাম্বা জেলায় প্রায় ৫ হাজার ৭০০ রোহিঙ্গা মুসলিম শরণার্থী বসবাস করছে। তিনি বলেন, মিয়ানমারের নিপীড়নের হাত থেকে বাঁচতে পালিয়ে আসা এসব শরণার্থী নিজে থেকেই রাজ্যে চলে এসেছে এবং দিল্লিভিত্তিক এনজিওগুলো তাদের অর্থনৈতিকভাবে সাহায্য করেছে।

মিয়ানমারে সংখ্যাগরিষ্ঠ বৌদ্ধ ও সেনাবাহিনীর সহিংসতার শিকার হয়ে দেশহারা হয়েছে সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠী রোহিঙ্গারা। নৌকাযোগে দেশ ছাড়তে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন শত শত। এদের অনেকে জুম্ম-কাশ্মিরে বসতি গড়েছেন।

মোহাম্মাদ ইউনুস (৭০) নামে এমন এক ব্যক্তি হিন্দুস্তান টাইমসকে বলেন, ‘চার বছর আগে আমি জম্মুতে এসেছি। তখন মিয়ানমারের জান্তা সরকার রোহিঙ্গাদের ওপর ভয়ঙ্কর নৃশসংসতা শুরু করেছিল এবং বিশ্ব নীরব ছিল। তারা আমাদের মেয়ে ও নারীদের ধর্ষণ করেছে, আমাদের বাসাবাড়ি আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিয়েছে, মানুষজনকে টুকরো টুকরো করে কাটা হয়েছে।’