Templates by BIGtheme NET
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ

প্রত্যাশার ২০১৭: গড়ে উঠুক স্বপ্নের বাংলাদেশ

মোহাম্মদ নুরুল্লাহ:
মাটি ও দেশের বৈষয়িক প্রয়োজন প্রবাসীদের জীবনে সেভাবে না থাকলেও মায়া-মমতার কাঙ্গাল থেকে যান আজীবন। প্রবাসে থেকেও আমরা স্বপ্ন দেখি স্বপ্নের বাংলার। জন্মধাত্রী মায়ের অনুপস্থিতিবোধে যেমন বুক মোচড়ায়, হাহাকার হু হু করে বেজে ওঠে, দেশের শারীরিক অনুপস্থিতিও তেমনই বোধ জাগায়। হাজার হলেও জীবনের প্রথম গন্ধ, দর্শন, শ্রবণ, বচন ও স্পর্শ তো মায়ের কাছ থেকেই পাওয়া। এরপর প্রত্যক্ষণের এই অভিজ্ঞতা দেশের জল-হাওয়া, উদ্ভিদ ও প্রাণী এবং সবোর্পরি মাটি ও মানুষের মমতা রসে ঋদ্ধ হয় যা অস্তিত্বের গভীর স্তরে লেপটে থাকে হৃদয়ের গহীনে।

একাত্তরে অগণিত মানুষের প্রাণের বিনিময়ে পরাধীনতার শৃংখল থেকে মুক্ত হয় এদেশ। পৃথিবীর মানচিত্রে গ্রোথিত হয় লাল সবুজের বাংলাদেশ। একটি পতাকা, একটি জাতি এবং একটি ভূখণ্ড পাই। দীর্ঘ সংগ্রামের পর অর্জিত স্বাধীনতার যে স্বপ্ন ছিল তার কতটুকু বাস্তবায়িত হয়েছে সে হিসাব জনগণই করবে। এটা অস্বীকার করার উপায় নেই স্বাধীনতার পর থেকে যে ধরনের উন্নয়ন হওয়ার কথা ছিল তা পুরোপুরি হয়নি। এরপরও থেমে থাকেনি উন্নয়নের চাকা। উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে দেশের বিভিন্ন স্থানে। এ সবকিছু দেশের মানুষের অবদান। অবশ্যই রাজনৈতিক নেতৃত্ব এতে সম্পৃক্ত। বিশ্বের অনেক দেশ সবধরনের ভেদাভেদ ভুলে এবং দোষীরা দোষ স্বীকার করে নিয়ে নিজেদের পরিবর্তন করে উন্নতির শিখরে পৌঁছেছে। সুনামের সাথে হাঁটছে উন্নয়নের পথে। আমরা কেন পারবো না।

আমাদের রয়েছে বিশাল জনগোষ্ঠী, বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদ। এগুলোর যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে আমরাও এগিয়ে যেতে পারি উন্নতির চূড়া থেকে আরো উচ্চতায়। ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত একটি উন্নত দেশ গড়ার যে স্বপ্ন নিয়ে স্বাধীনতা এনেছে এদেশে মানুষ সে স্বপ্নের বাস্তবায়নে দৃঢ়পদে সামনে অগ্রসর হওয়াই এ মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। আমরা বিশ্বাসঘাতক, আত্মঘাতী বাঙ্গালি। আমরা হত্যা করেছি হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে, হত্যা করেছি মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে। তারপরেও আমরা এগিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি। রাজনীতির সমস্যা সব দেশে কম বেশি হয়ে থাকে কিন্তু গণতন্ত্র তার ধারায় চলে কিন্তু আমার বাংলাদেশ এখনো গণতন্ত্রের পূর্ণ স্বাদ পায়নি।

আমরা প্রতিটি নতুন বছরে স্বপ্ন ও সম্ভাবনার বীজ বুনি, এ বীজ আবার অঙ্কুরেই বিনষ্ট হয়ে যায়। হতাশাগ্রস্ত হয়েও আমরা আবার আশায় বুক বাঁধি, নতুন করে স্বপ্ন দেখি। গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন, অর্থনৈতিকভাবে স্বনির্ভর হওয়ার স্বপ্ন। একটি সুষ্ঠু, সুস্থ্য রাজনৈতিক সংস্কৃতি গঠনের স্বপ্ন। কিন্তু আমাদের স্বপ্ন বার বার হোঁচট খায়, চোরাবালিতে আটকে যায়, মাঠে মারা যায়। আমরা মুখ থুবড়ে পড়ি। আমাদের জাগিয়ে তোলার যেন কেউ নেই। সবাই আমাদের আশার বাণী শোনায়। চারদিকে কথার ফুলঝুরি শুনে শুনে আমরা একবার আশায় বুক বাঁধি, আবার আশাহত হই।

আমরা ক্ষুধা, দারিদ্র্যমুক্ত একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ চাই। যে বাংলাদেশ গড়ার জন্য বর্তমান সরকার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং বিগত অনেক ক্ষেত্রেই সফল হয়েছে। যে বাংলাদেশের জন্য বাঙালি এত সংগ্রাম, সাধনা ও আত্মত্যাগ করেছে, রাজপথে রক্ত ঝরিয়েছে। একাত্তরে ৩০ লাখ মানুষ প্রাণ দিয়েছে, লাখ লাখ মা-বোন ইজ্জত হারিয়েছে। এত ত্যাগ-তিতিক্ষা, এত রক্তের বিনিময়ে একটি স্বাধীন বাংলাদেশ পাওয়া, সে দেশ স্বনির্ভর হতে পারবে না, ঘুরে দাঁড়াবে না, এটা বিশ্বাস করতে চাই না। আমরা প্রত্যাশার দ্বারপ্রান্তে শুধু চাই সকল অন্যায়ের বিরুদ্ধে সমষ্টিগত একাত্বতা। আমরা গণতন্ত্র বিকাশ ও প্রতিষ্ঠার কথা মুখে বলে বলে ফেনা তুলি, কিন্তু গণতন্ত্রচর্চা করি না। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যদি গণতন্ত্রচর্চায় বলিষ্ঠ ভূমিকা না থাকে, তবে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে কী করে।

প্রত্যাশা করি, ২০১৭ হোক গণতন্ত্রচর্চার বছর, অর্থনৈতিক উন্নয়নের বছর। সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা হবে, বিরোধী দল তাদের গঠনমূলক আন্দোলন করার সুযোগ পাবে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও সব রকম ধর্মীয় গোঁড়ামির ঊর্ধ্বে থেকে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে গড়ে উঠুক সহযোগিতা ও সহমর্মিতার মেলবন্ধন এ প্রত্যাশা করা। গড়ে উঠুক সন্ত্রাস ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ এটাই চাওয়া। দেশের সর্বত্র শান্তি বিরাজ করুক। নতুন বছরে এসবই আমরা একান্তভাবে কামনা করছি।

লেখক: প্রবাসী সাংবাদিক