Templates by BIGtheme NET
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ

শহীদ মিনারে সাংবা‌দিক উপেক্ষার বেদনার ক্ষত

মোহাম্মদ নুরুল্লাহ, পর্তুগাল থেকে: মহান বিজয় দিবসের বিজয় শুভেচ্ছা। এ বিজয়ের মাসে পরম শ্রদ্ধায় স্ম‌রি হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি ও স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান‌কে। মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের, ভাষা আন্দোলনের শহীদদের এবং সেই সব বীরঙ্গনাদের যারা তৎকালীন সময় হারিয়েছেন নিজেরদের সব চেয়ে অমূল্য সম্পদ।

আলোচনার শুরুতেই টেনে আনতে হয় সংবাদপত্র সম্পর্কে নেপোলিয়নের সেই উক্তি যেখানে তিনি বলেন, সংবাদপত্র ‘রাষ্ট্রের পঞ্চম প্রধান স্তম্ভ’। জার্মানির এনলাইটেনমেন্ট বা জ্ঞানবিভাসিত যুগের অন্যতম আলোকবর্তিকা দার্শনিক আর্থার শোপেনহাওয়ার (১৭৮৮-১৮৬০) বলেছেন, সংবাদপত্র হলো ‘বিশ্ব ইতিহাসের অন্যতর হাত’ সেকেন্ড হ্যান্ড অব ওয়ার্ল্ড হিস্ট্রি। অর্থাৎ একটি হাত নিয়ে যেমন একজন মানুষ অসম্পূর্ণ, তেমনি পৃথিবীর পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস রচনার জন্য প্রতিদিনের ইতিহাস বা সংবাদপত্রের সাহায্য না নিলে তা হবে অসম্পূর্ণ। মুক্ত সমাজব্যবস্থায় প্রতিক্রিয়াশীল ও ক্ষমতাবানদের পদলেহনকারী সংবাদপত্রও থাকে। একশ্রেণির পাঠককে তারা বিভ্রান্ত করে।

এরই মধ্যে অবগত হয়েছেন রাষ্ট্রদূত ইমতিয়াজ আহমেদ এর প্রচেষ্ঠায় পর্তুগালে স্বল্প বাংলাদেশীর বসবাস সত্ত্বেও কূটনৈতিক কৌশ‌লে তিনি গোটা ইউরোপের মধ্যে ইতালির পরে ২য় স্থায়ী শহীদ মিনার উপহার দিয়েছেন বাংলাদেশ কমিউনিটি পর্তুগালকে। যা লিসবনের ক্যাম্প মার্তিরেস দা পাট্রিয়া পার্কে (Campo Mártires da Pátria) অবস্থিত। গত ২০১৫ সালে ২১শে ফেব্রুয়ারী মহান আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে পুর্তগালে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ইমতিয়াজ আহমেদ ভাষা শহীদদের স্বরণে পুস্প অর্পনের মাধ্যমে শহীদ মিনারের উদ্বোধন করেন।

15658049_10211831271395196_820530321_o

এসময় জুন্তা দ্যা ফেগসিয়া এর প্রেসিডেন্ট ম্যারগারিদা মারতিন্স, লিসবনের বাংলাদেশ দুতাবাসের প্রথম সচিব মোঃ খালেদ, ভারতের রাষ্ট্রদূত ডঃ জীতেন্দ্র নাথ মিশ্রা, লিসবন মিউনিসিপালিটির প্রতিনিধি, লিসবনের বাংলাদেশ দুতাবাসের কর্মকর্তাবৃন্দ, লিসবনের মেয়রের প্রতিনিধি, লিসবনের বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্রতিনিধিগণ। সেই সময় মিডিয়াতে কর্মরত আমি ও আমার সহকর্মী সেলিম উদ্দীন বিভিন্ন সংবাদপত্র ও টিভিতে সংবাদ প্রদর্শন করে সারাবিশ্বকে জানান দেই মাতৃভাষা রক্ষায় প্রবাসে বাঙালিরাও পিছিয়ে নেই। সেই সময় আমাদেরই আরেক সহকর্মী সাহেদ ইব্রাহীম নবী প্রথম আলোতেও একটি নিউজ করে।

কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় ২০শে ডিসেম্বর পর্তুগালের ২য় বৃহত্তম শহর পর্তুতে আরো একটি স্থায়ী শহীদ মিনার উদ্বোধন হতে যাচ্ছে যার সার্বিক তত্ত্ববধানে আছেন পর্তুবাংলা কমিউনিটি এবং সেই কমিটির প্রধান শাহ আলম কাজ। এবারের দূতাবাস কর্তৃক আয়োজিত বিজয় দিবস অনুষ্ঠানে যাওয়ার পর রাষ্ট্রদূত বিষয়টি আমাদের অবহিত করেন এবং প্রশ্ন করেন আমরা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক কোন দাওয়াত পেয়েছি কিনা? এই প্রশ্নের উত্তরে আমার সহকর্মী সেলিম উদ্দীন (বাংলা টিভি ইউকে) এবং আমি উত্তর দেই এখনো পাইনি। এতে রাষ্ট্রদূত কিছুটা মর্মাহত হন এবং কিছুটা লজ্জিতবোধ করেন বাংলাদেশ কমিউনিটি পর্তুর কার্যকলাপ নিয়ে।

পরিশেষে এই কথা মনে রাখতে হবে, সাংবাদিকরা জাতির নিয়তির অনিবার্য প্রতিনিধি। তাই তাদের মাইনাস করে সাময়িক বাহবাহ পাওয়া যায় কিছু ব্যাক্তির কাজ থেকে, উপসংহারে কিন্তু সমালোচনায় থেকে যাবে, এটাই নিয়ম, এটাই হওয়া উচিত। আমরা দেশ ছে‌ড়ে‌ছি, তবু দেশ থা‌কে পরম মমতায় হৃদয় মাজা‌রে। সব সংকীর্নতার বাইরে দাড়াবার মহান বিজ‌য়ের এ মা‌সের চেয়ে বড় ক্ষণ কি আর থা‌কে থাকবার?

‌সত্য আর বস্তুনিষ্ঠতা নির্ণিতও হয় মানুষের সম্পৃক্ততাকে ঘিরে।