Templates by BIGtheme NET
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ

বিজয়ের ৪৫বছর ও আমার ভাবনা

মোহাম্মদ নুরুল্লাহ:
মুক্তিযুদ্ধে বিজয় আমাদের কোটি প্রাণের চাওয়া ছিল। ১৯৭১ সালে ত্রিশ লাখ প্রাণের বিনিময়ে এ কাঙ্ক্ষিত চাওয়ার বাস্তবায়ন ঘটেছে দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধ করার মধ্য দিয়ে। তবে বিজয়ের  পূর্ববর্তী সময়ে এই অধরা বিজয়কে  ঘিরে ছিল বাংলার মানুষের নানা স্বপ্ন। এই বিজয়ের  ৪৫বছর অতিক্রান্ত করতে যাচ্ছি আমরা । ৪৫বছর পর অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগতে পারে, আমরা আমাদের স্বপ্নের কতটা পূর্ণতা দিতে পেরেছি। এ নিয়ে নানা মতভেদও তৈরি হতে দেখা যায় নানা জনের মধ্যে। আমি মনে করি আমরা সঠিক জায়গাতেই আছি। সমগ্র জাতিই বিজয়ের আনন্দে উদ্বেলিত হয়।

একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর বাঙালি জাতির ইতিহাসে একটি অনন্য দিন। দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করতে গিয়ে লক্ষ লক্ষ মানুষকে প্রাণ দিতে হয়েছে, রক্ত ঢেলে দিতে হয়েছে; মা-বোনেরা হারিয়েছে তাদের জীবনের শ্রেষ্ঠ সম্পদ- ইজ্জত-আব্রু। তবে বীর বাঙালি দমেনি, জ্বলে-পুড়ে খাক হয়ে গেছে, তবু মাথা নোয়ায়নি। তারা ছিনিয়ে এনেছে স্বাধীনতার লাল সূর্য, ঊর্ধ্বে তুলে ধরেছে রক্তে রঞ্জিত লাল-সবুজের পতাকা।

বিজয় দিবস আমাদের দেয় অফুরন্ত প্রেরণা, চলার পথের দিশা। প্রতিবছর আমরা নতুন করে শপথ গ্রহণ করি, নবচেতনায় উদ্দীপ্ত হই। প্রতিবছর বিজয় দিবসের স্মৃতি আমাদেরকে জাগিয়ে দিয়ে যায় দেশ গড়ার মহাকর্মযজ্ঞে সামিল হতে।স্বাধীনতার পরবর্তী সুবিধাগুলো আমরা ঠিকভাবেই পেতে শুরু করেছি। স্বাধীনতার পূর্ববর্তী সময়ে আমি ছিলাম না। তবে ইতিহাস থেকে যা জেনেছি তার ভিত্তিতে বলতে পারি আমরা তখনকার সময়ের চেয়ে এখন অনেক ভালো আছি। বিজয়ের  ৪৫ বছর পেরিয়ে যাচ্ছি  আমরা। তারপরও হয়তো সত্যিকারের বিজয়ের  স্বাদ পেতে আমাদের আরও অনেকদিনের প্রয়োজন হবে। তবে যে যাই বলুক না কেন সবার প্রত্যাশার জায়গা একটাই। ‘একটি সোনার বাংলাদেশ ও সঠিক গণতন্ত্র চর্চা। স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর অবদানের কথা অবশ্যই স্বীকার করতে হবে; তিনি স্বাধীনতার স্থপতি।

পাক আমলে স্বাধিকার আন্দোলনে ২৫ বছর বাঙালিরা লিপ্ত ছিল; বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। অন্যদিকে বীর মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমানকেও সম্মান ও স্বীকৃতি জানাতে হবে। দেশের জন্য জাতির জন্য যার যেটুকু অবদান, তা স্বীকার করে নিলেই আর সমস্যা থাকে না; ইতিহাস বিকৃতিও হবে না বলে আমার বিশ্বাস। আমাদের প্রত্যেককে সংকীর্ণ মনোভাব ত্যাগ করে উদারচিত্ত হতে হবে। বাঙালি জাতি বঙ্গবন্ধুর নিহত হওয়ার দিনটিকে জাতীয় শোক দিবস হিসেবে পালন করে থাকে। তবে বঙ্গবন্ধু কোনো সাধারণ মানুষ নন। তাঁর মৃত্যুর দিনটিকে দেশের একজন বড় রাজনৈতিক নেত্রী যিনি একাধিকবার দেশের প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী দলীয় নেতার দায়িত্ব পালন করেছেন, যখন ঘটা করে জন্মদিন হিসেবে পালন করেন তখন সেটাকে রাজনৈতিক শিষ্টাচার-বিবর্জিত না বলে পারা যায় না। তাছাড়া সত্যি সত্যি যদি বেগম জিয়ার জন্মদিন ১৫ আগস্ট হত, তাহলেও না হয় বিষয়টি সহজভাবে নেয়া যেত।

লেখক: প্রবাসী সাংবাদিক
লিসবন ,পর্তুগাল