Templates by BIGtheme NET
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ

পোস্ট ট্রুথ মিডিয়ার সৃষ্টি

নিউজ ডেস্ক: গত দুদিনে নতুন করে আলোচনায় আসে ‘পোস্ট ট্রুথ’ শব্দটি। ‘বিউটি ইজ ট্রুথ, ট্রুথ বিউটি’ অর্থাৎ সত্য সুন্দর, সুন্দরই সত্য- এ ধারণাকে যেন বুড়ো আঙ্গুল দেখায় ছোট্ট এ শব্দটি। আমাদের কাছে পোস্ট ওয়ার (যুদ্ধোত্তর), পোস্ট মডার্নিজম (উত্তর আধুনিক), পোস্ট স্ট্রাকচারালিজম (উত্তর অবকাঠামোবাদ) ইত্যাদি শব্দের সঙ্গে পরিচিত হলেও পোস্ট ট্রুথ (উত্তর সত্য) বিষয়টি একেবারেই নতুন। সম্প্রতি ব্রিটিশ ডিকশনারি অক্সফোর্ড ‘পোস্ট ট্রুথ’ ২০১৬ এর বর্ষসেরা শব্দ হিসেবে ঘোষণা করেছে।

এ ব্যাপারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. দেলোয়ার হোসেন বলেন, পোস্ট ট্রুথ শব্দটির মানে হচ্ছে- আপাতভাবে সত্য বা ফ্যাক্ট হিসেবে যা মনে হচ্ছে সেটি ছাপিয়ে জনগণের আবেগ বা মতামতের প্রাধান্যের মধ্যদিয়ে আরেকটি সত্য উপস্থাপিত হওয়া। ১৯৯২ সালে পোস্ট ট্রুথ শব্দটি প্রথম ব্যবহৃত হলেও এ বছরের চলমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বহুল ব্যবহৃত। ব্রিটেনে ব্রেক্সিট ভোটের মাধ্যমে ইউ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া থেকে সর্বশেষ মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিজয় লাভের পর পর্যন্ত শব্দটি ব্যাপকহারে ব্যবহৃত হয়। তবে সত্য থেকে দূরে থেকে রাজনৈতিকভাবে সুদূরপ্রসারী ইতিবাচক দিকে আসা সম্ভব নয়।

পোস্ট মর্ডানিজম বা উত্তর আধুনিকতা দর্শনের ফলপ্রসূ দিক পোস্ট ট্রুথ কিনা এর উত্তরে তিনি বলেন, পোস্ট্র ট্রুথ বিষয়টিকে আমি ইতিবাচক বা নেতিবাচক হিসেবে ব্যাখ্যা করবো না। দর্শনের ক্ষেত্রে আধুনিকতা বা মর্ডানিজম বিষয়টি যেমন নিরপেক্ষ বা সার্বজনীন নয়। তেমনি পোস্ট ট্রুথ বিষয়টিও কেবল একশ্রেণির মানুষের জন্য। কিন্তু সত্য সার্বজনীন, সার্বিক। সত্য থেকে সরে গেলে সমাজ, সংস্কৃতি এবং রাজনীতির জন্য মঙ্গলজনক ফল পাওয়া যায় না।

পোস্ট ট্রুথ আমাদের দেখিয়েছে যে, সত্য থেকে দূরে গিয়েও রাজনৈতিকভাবে সফলকাম হওয়া যায়। আর ডোনাল্ড ট্রাম্প, নাইজাল ফারাজ, বোরিস জনসন এটিই আমাদের দেখিয়েছে। যুক্তরাজ্যে ব্রেক্সিটের মতো ভয়াবহ একটি সিদ্ধান্ত ব্রিটিশরা নিয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে সরে যাওয়ার মতো সিদ্ধান্তটি যে ভুল ছিল তা নির্বাচনের পরপরই তারা বুঝতে পারে। কিছুদিন আগে তাদের জুডিশিয়ারি থেকেও ব্রেক্সিটের বিরোধিতা করা হয়। কারণ ব্রেক্সিট তারা মেনে নিতে পারছে না। ব্রেক্সিট সিদ্ধান্তটি একেবারেই সত্য থেকে সরে গিয়ে এসেছে বা জনগণের কাছে সেরকমভাবেই উপস্থাপন করেছে সেখানকার উগ্রডানপন্থী নেতারা। ইমিগ্রেশনবিরোধী ও বর্ণবাদকে প্রশ্রয় দেয়া এসব নেতারা সাধারণ জনগণকে ব্রেক্সিটের পক্ষে বোঝাতে সক্ষম যা আদতে দেশটির জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

পোস্ট ট্রুথ বিষয়টি কি মিডিয়ার সৃষ্টি এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, অবশ্য এর পিছনে মিডিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। কারণ মিডিয়ার মাধ্যমেই জনগণের সবচেয়ে কাছে পৌঁছানো যায়। এক্ষেত্রে ডোনাল্ড ট্রাম্প অনেক বড় একটি উদাহরণ। কারণ পোস্ট ট্রুথের বাস্তবতা কার্যকর হচ্ছে রাজনীতি-সংস্কৃতিকে ঘিরে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্য একজন সত্যান্বেষীর কাছে নেতিবাচক মনে হতে পারে কিন্তু একজন সাধারণ মানুষ যারা একটি নির্দিষ্ট গ-ির মধ্যে চিন্তা করেন তারা কিন্তু ট্রাম্পের বিষয়গুলো অন্যভাবে দেখেছে। যার ফলাফল আমরা ইতিমধ্যে নির্বাচনের ফলাফলে দেখতে পেয়েছি। সুতরাং পোস্ট ট্রুথের বিষয়টি গণমাধ্যমকে আরও সচেতন ভূমিকা পালনের বিষয়েও সতর্ক করে। আমাদেরসময় ডট কম