Templates by BIGtheme NET
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ

সবাইকে ‘যুদ্ধাপরাধীদের সহযোগি’ ট্যাগ লাগিয়ে দিবেন না

গোলাম মোর্তোজা :
যারা নিয়মিত টকশো করেন, তাদের মধ্যে কয়জন সাংবাদিক সম্পাদক যুদ্ধাপরাধীদের টেলিভিশনে যান নি? আমি খুঁজে তিন থেকে চার জনের বেশি পাই না। তার মধ্যে এই অধমও একজন! একটি কথা বলে রাখতে চাই, যারা যুদ্ধাপরাধীদের টেলিভিশনে গিয়েছেন, পত্রিকায় লিখেছেন, তাদের সবাই যুদ্ধাপরাধীদের সহযোগি জামায়াত রাজাকার, এই ট্যাগ লাগিয়ে দিবেন না। এই ট্যাগ লাগিয়ে দেয়ার আপনি কেউ নন।

যাওয়া ঠিক না ভুল ছিল, হিসেবটি তাদেরই করতে দিন। তাদের অনেকেই এই দেশ সমাজ সংস্কৃতি সাহিত্যে, আপনার আমার চেয়ে অনেক বেশি অবদান রেখেছেন, রাখছেন, রাখবেন। এই একটি ঘটনা দিয়ে তাদের কাউকে রাজাকার ট্যাগ লাগিয়ে দেয়া অনুচিত।

যে কাউকে অকারণে অথবা তার সঙ্গে যুক্তিতে যোগ্যতায় না পেরে, রাজাকার ট্যাগ যারা লাগিয়ে দিচ্ছেন, আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের অন্ধকার দিকটি একবার দেখেন।

রামপাল প্রসঙ্গে একটি গল্প বলি।

১৯৭১ সালে তিনি বুয়েটের ছাত্র। তার সব বন্ধুরা মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিতে চলে গেলেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধে গেলেন না। এখন তিনি অন্য আরেকটি দেশের নাগরিক। কূখ্যাত এশিয়া এনার্জির পক্ষে কথা বলার জন্যে বাংলাদেশে এসেছিলেন। ফুলবাড়ি থেকে এশিয়া এনার্জির বিতাড়নের মধ্য দিয়ে তিনিও বাংলাদেশ থেকে প্রায় বিতাড়িত হয়েছিলেন।

রামপাল ইস্যুতে আবার ভাড়ায় এসে তথাকথিত বিশেষজ্ঞ মতামত দিচ্ছেন। বলছেন ‘সুন্দরবনের আশেপাশে কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র, শিল্প গড়ে উঠলে এলাকার মানুষের উন্নয়ন হবে, সুন্দরবনের উন্নয়ন হবে!

এই তথাকথিত বিশেষজ্ঞের কূ-যুক্তি, আমরা সু-যুক্তি দিয়ে মোকাবিলা করছি। ১৯৭১ সালের প্রসঙ্গ এনে তাকে কিন্তু ‘জামায়াত রাজাকার ট্যাগ লাগিয়ে দিচ্ছি না।

আপনারা হলে কি করতেন? জামায়াত রাজাকার ট্যাগ লাগিয়ে দিতেন না?

সম্পূর্ণ ক্লিন ইমেজের প্রকৌশলী শেখ মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ বা অধ্যাপক আনু মুহাম্মদের চরিত্রহননের অপচেষ্টা করছেন শত ভাগ অসত্য তথ্য দিয়ে। কেন করছেন? করছেন, কারণ আপনাদের যুক্তি নেই। দাঁড়িয়ে আছেন মিথ্যার উপরে। আমরা সত্যের উপর দাঁড়িয়ে যুক্তি দিয়ে কাজ করছি, কথা বলছি, কাউকে জামায়াত রাজাকার বা চরিত্রহনন বা গালাগালি করার প্রয়োজন পড়ছে না।