Templates by BIGtheme NET
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ

এই সাংবাদিকতা ক্লাসে শেখানো সম্ভব নয়!

রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্প নিয়ে শনিবার সংবাদ সম্মেলন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সংবাদ সম্মেলনে তিনি ছিলেন আত্মবিশ্বাসী, উৎফুল্ল ও প্রাণবন্ত। মিডিয়া বান্ধব হিসেবে তিনি প্রশংসিত। সংবাদ সম্মেলন শেষে প্রশ্ন শুনতে আগ্রহী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রামপালের বাইরেও জঙ্গিবাদ, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জনকেরির ঢাকা সফর নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।

এবারও সংবাদ সম্মেলনে সিনিয়র সাংবাদিকরা কেউ কেউ প্রশ্নের চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর বন্দনা করে বক্তব্য দানে এগিয়ে ছিলেন। তবে আগের চাইতে এর পরিবর্তন ঘঠেছে অনেকটা। সংবাদ সম্মেলনে পেশাদারিত্বের জায়গা থেকে সুনির্দিষ্ট প্রশ্ন করেছেন একুশে টেলিভিশনের মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল, মাছরাঙা টেলিভিশনের রেজওয়ানুল হক রাজা, এশিয়ান টেলিভিশনের আনিস আলমগীর, ঢাকা বাংলা টেলিভিশনের মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জু, এটিএন বাংলার শেখ নাজমুল হক সৈকত।

বাকিরা বক্তৃতাই করেছেন বেশি। কেউ কেউ প্রধানমন্ত্রীর সামনে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন। এসময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বভাব সুলভ স্মিত হেসে হেসে উপভোগ করেন।

সুনির্দিষ্ট প্রশ্ন না করে দলীয় কর্মীদের মত সাংবাদিকদের প্রধানমন্ত্রীর বন্দনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে সমালোচনার ঝড় ওঠে।

ফেইসবুকে ক্ষোভ প্রকাশ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক গীতিয়ারা নাসরিন লিখেছেন, এই সাংবাদিকতা ক্লাসে শেখানো সম্ভব নয়! আজকের সংবাদ-সম্মেলনের ভিডিও নথি প্রত্যেক সাংবাদিকতা বিভাগে সংরক্ষণ করা হোক।

তার দেয়া পোষ্টে হাসান মামুন নামে একজন মন্তব্য করেছেন, দলাদলি আর গোষ্ঠীতন্ত্রের অনিবার্য পরিণতি দেখছি আমরা। অবাক হবেন না। এটাই আমাদের প্রাপ্য ছিল।

খালিদ নোমান নুমি লিখেছেন, আপানাদের বয়েস কম, সেজন্য জানেন না। ৭২-থেকে ৭৫ পর্যন্ত আমি অনেক সাংবাদিকদের দালালির ইন্টারভিউর কথা জানি। বাংলাদেশে দালাল সাংবাদিকদের অভাব কখনই ছিলনা।

তাওহীদ হায়দার খান লিখেছেন, ম্যাডাম খালেদা জিয়ার সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন-উত্তর পর্ব থাকে না, তাই তাকে প্রশ্ন করাই যায় না। আর প্রধানমন্ত্রী তো তবু প্রশ্ন শোনেন, উত্তরও দেন। কিন্তু অগ্রজ সাংবাদিকেরা প্রশ্ন করেন নাকি পরামর্শ দেন নাকি অন্যকিছু করেন, বুঝতে পারি না।

সাংবাদিক গোলাম মোর্তোজা তার ফেইসবুকে লিখেছেন, সব কিছুই তো পরিবর্তনশীল। সাংবাদিক-সাংবাদিকতা-সংবাদ সম্মেলনের প্রশ্ন,পরিবর্তিত একটা নতুন রূপ দেখছেন এদেশের মানুষ। বিচলিত হচ্ছেন কেন,এগিয়ে যাওয়ার প্রতিযোগিতায় এসব খুব অস্বাভাবিক কিছু নয়। ‘আস্থা-বিশ্বাস’ – রাখার সাংবাদিকতার যুগে আছি আমরা।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর এক পাশে ছিলেন তথ্য মন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, আরেক পাশে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু। আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রী ও নেতারা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।  সংবাদ সম্মেলনে সম্পাদক, সিনিয়র সাংবাদিকসহ মাঠ রিপোর্টারদের সরব উপস্থিতি ছিলেন।