Templates by BIGtheme NET
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ

ঘুরে আসুন শেরপুরের গারো পাহাড়

নিউজ ডেস্ক: নগর জীবনের ঝঞ্ঝাট আর ক্লান্তিকে দূর করতে বেড়িয়ে আসতে পারেন শেরপুর জেলার সীমান্তবর্তী গারো পাহাড় এলাকায়। এখানে রয়েছে শাল-গজারি বাগান আর বাগানের ফাঁকে মনোমুগ্ধকর নৈসর্গিক সৌন্দর্যের দৃশ্য এবং পাহাড়ের চূড়ায় উঠে দেখতে পাবেন মেঘ-রোদ্দুরের খেলা আর আদিবাসী গারো-কোচ-হাজংসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের আদিবসীদের জীবন-জীবিকা।

এই এলাকায় ইতিমধ্যে স্থানীয় জেলা প্রশাসন এবং বন বিভাগের উদ্যোগে  মনোমুগ্ধকর ‘অবকাশ’ ও ‘মধুটিলা ইকোপার্ক’ নামে দুইটি পর্যটন বা পিকনিক স্পট গড়ে উঠেছে। এ ছাড়া আরও বেশ কয়েকটি দর্শনীয় স্থান রয়েছে যেখানে বেড়াতে গেলে নগর জীবনের একঘেয়েমি কাটিয়ে মনকে উৎফুল্ল করে তুলতে পারবেন।

ভারতের মেঘালয় রাজ্যের সীমান্ত ঘেঁষা শেরপুর জেলার প্রায় ৩৫ কিলোমিটার সীমান্ত জুড়ে রয়েছে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি গারো পাহাড়। এই পাহাড়ে দেশের পার্বত্য এলাকার মতো সুউচ্চ পর্বত বা পাহাড় ও লেক না থাকলেও এখানকার শাল-গজারি, ইউকিলিপটাস-আকাশমনি, সেগুন-মেহগনি, মিনঝিরিসহ নানা প্রজাতির গাছগালি ঘেরা উঁচু-নিচু টিলা আর পাহাড়ি টিলা বেয়ে সমতলের দিকে ছুটে চলা ছোট ছোট ঝর্না, ঝোড়া ও ছড়া দিয়ে বয়ে যাওয়া পানির কলকল শব্দ যেকোনো প্রকৃতি প্রেমীর হৃদয়কে আন্দোলিত করবে। সেইসঙ্গে ওইসব পাহাড়ি টিলার ওপর এবং সমতলে শত শত বছর ধরে বসবাসকারী নৃ-গোষ্ঠীর নানা সম্প্রদায়দের লোকদের সংস্কৃতি ও জীবন-জীবিকা পাহাড়ের সৌন্দর্যকে আরো বৃদ্ধি করেছে। পাহাড়ের চূড়ায় ওয়াচ টাওয়ারে দাঁড়িয়ে উঁচু-নিচু পাহাড়ের গায়- মেঘ-রোদ্দুরের খেলা আর সীমান্তের ওপারের ভারতীয় অধিবাসীর ঘর-বাড়ির দৃশ্য মন ছুঁয়ে যায়, হৃদয়কে উদ্বেলিত করে।
Garo hills1
গজনি অবকাশ
১৯৯৫ সনে তৎকালীন শেরপুর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শেরপুর জেলা সদর থেকে ২৮ এবং ঝিনাইগাতি উপজেলা সদর থেকে ৮ কিলোমিটার উত্তরে কাংশা ইউনিয়নে গজনি পাহাড়ের প্রায় ৯০ একর পাহাড়ি টিলায় ‘গজনি অবকাশ কেন্দ্র’ নামে একটি পিকনিক স্পট গড়ে তোলা হয়।

এই পিকনিক স্পটে দর্শনীয় ও আর্কষণীয় স্থানগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে শিহরণ জাগানো পাহাড়ের চূড়ায় ‘সাইট ভিউ টাওয়ার’, সূরঙ্গ পথে পাতালপুরী, শিশু পার্ক, মিনি চিড়িয়াখানা, মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভ, মৎসকন্যা, ডাইনোসর, বাঘ, হাতি, জিরাফ, বানর, কুমির, হরিণসহ বিভিন্ন জীবজন্তুর প্রতিকৃতি। এছাড়াও রয়েছে ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য ৬ কক্ষ বিশিষ্ট রেস্ট হাউজ (শুধু দিনের বেলা ব্যবহারের জন্য)। অবকাশের উত্তর এবং পশ্চিম পাশেই রয়েছে বিচিত্র জীবন-জীবিকার মানুষ আদিবাসী গারো-কোচ-হাজংসহ ৬ সম্প্রদায়ের লোকজন।

এখানে বিশ্রামের জন্য রয়েছে ২ টি ভিআইপি কক্ষসহ ৪ কক্ষ বিশিষ্ট ‘অবকাশ ভবন’ এবং লেকের উপর ২ কক্ষ বিশিষ্ট ব্যক্তিগত ‘জিহান রেস্ট হাউজ’। সরকারি বিশ্রামাগারে শুধু দিনের বেলার জন্য জেলা নেজারত শাখা থেকে ৫০০ টাকা অগ্রিম বুকিং দিয়ে ভাড়া নেয়া যায় এবং ব্যক্তিগত রেস্ট হাউজটি ব্যবহার করতে চাইলে এর মালিক জেলা শহরের রশিদা বিড়ি ফ্যাক্টরির মালিক ইদ্রিস মিয়া অথবা অবকাশ কেন্দ্রেই তার মনোনীত লোকের মাধ্যমে ভাড়া নেয়া যায়।

যেভাবে যাবেন
ঢাকার মহাখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে শেরপুরের যাত্রীবাহী ড্রিমল্যান্ড স্পেশাল সার্ভিসে সোজা শেরপুর জেলা শহরের নবীনগর বাস টার্মিনালে এসে সেখান থেকে লোকাল বাস টার্মিনালে যেতে হবে। ওখানে ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা অথবা রিকশা করে যাওয়া যায়। সেখান থেকে লোকাল বাসে অথবা শহরের খোয়ারারপাড় মোড়ে গিয়ে সিএনজি চালিত অটোরিকশায় ২০ কিলোমিটার সোজা উত্তরে সীমান্তবর্তী ঝিনাইগাতী উপজেলা সদরে গিয়ে আবার অটোরিকশা অথবা সিএনজি চালিত অটোরিকশায় আরো প্রায় ৮ কিলো মিটার উত্তরে গজনি নামক গারো পাহাড়ের কাঙ্ক্ষিত অবকাশ কেন্দ্রে পৌঁছানো যাবে। ঢাকা থেকে শেরপুরের ভাড়া ২২০ টাকা। এখান থেকে ঝিনাইগাতী উপজেলা সদরের ভাড়া ২৫ টাকা এবং ঝিনাইগাতী থেকে অবকাশের ভাড়া ৩০ থেকে ৪০ টাকা রিকশা অথবা অটোরিকশায়।
Modhu tila Eco Park
মধুটিলা ইকোপার্ক
১৯৯৯ সালে শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১৪ কিলোমিটার উত্তরে এবং জেলা সদর থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার উত্তরে সীমান্তবর্তী গারো পাহাড় এলাকায় ময়মনসিংহ বন বিভাগের ব্যবস্থাপনাধীন পোড়াগাঁও ইউনিয়নের মধুটিলা ফরেস্ট রেঞ্জের সমেশ চূড়া বীটের আওতায় ৩৮০ একর পাহাড়ি টিলার ওপর ‘মধুটিলা ইকো পার্ক’ নামে মনোরম পিকনিক স্পট গড়ে তোলা হয়েছে। গারো পাহাড় এলাকায় নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক নৈসর্গিক ওই পিকনিক কেন্দ্রে এখন হাজার হাজার ভ্রমণ পিপাসুদের পদচারণায় ভরে উঠেছে। প্রতি বছর শীত মওসুমে ও বসন্তকালে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শিক্ষা সফর ও বনভোজনে বাস, মাক্রোবাস, প্রাইভেট কার করে হাজার হাজার ভ্রমণ পিপাসুরা বেড়াতে আসছে।

এখানে রয়েছে, ইকোপার্কে প্রবেশ পথে সুদৃশ্য প্রধান ফটক, ডিসপ্লে মডেল, তথ্য কেন্দ্র, গাড়ি পার্কিং জোন, ক্যান্টিন, ওয়াচ টাওয়ার, মিনি চিড়িয়াখানা, মনোরম লেক ও বোটিং, স্টার ব্রিজ, স্ট্রেম্পিং রোড বা সুউচ্চ পাহাড়ে উঠার জন্য ধাপ রাস্তা (সিঁড়ি), মিনি শিশু পার্ক, মহুয়া রেস্ট হাউজ, স্টিলের ছাতা, ইকো ফ্রেন্ডলি বেঞ্চ, আধুনিক পাবলিক টয়লেট, পার্কের প্রবেশ পথ ধরে যাওয়া বিভিন্ন সড়কের পার্শ্বে স্থাপন করা হয়েছে হাতি, হরিণ, রয়েল বেঙ্গল টাইগার, সিংহ, বানর, কুমির, ক্যাঙ্গারু, মৎস্য কন্যা, মাছ, ব্যাঙসহ বিভিন্ন জীব জন্তুর ভাস্কর্য। এ ছাড়া আরও রয়েছে বিরল প্রজাতি, পশু পাখি আকৃষ্ট, ওষুধী ও সৌন্দর্য বর্ধক প্রজাতির গাছের বাগান, মৌসুমী ফুলের বাগান এবং সাত রঙের গোলাপ বাগান। পার্কের উঁচু টিলার ওপর ৩ কামরা বিশিষ্ট সুদৃশ্য বাংলো বা ‘মহুয়া রেস্ট হাউজ’ ব্যবহার করতে হলে ময়মনসিংহ অথবা শেরপুর বন বিভাগ অফিস থেকে প্রতিদিনের জন্য ৪ হাজার ৫০০ টাকা এবং ২০০ টাকা ভ্যাটসহ মোট ৪ হাজার ৭০০ টাকায় ভাড়া নিতে হবে।

যেভাবে যাবেন
ঢাকা মহাখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে শেরপুর জেলা সদরে বেশ কিছু ভাল বাস সার্ভিস রয়েছে।জন প্রতি ভাড়া হচ্ছে ২২০ টাকা। এরপর শেরপুর জেলা সদরের লোকাল বাস স্ট্যান্ড থেকে নালিতাবাড়ি উপজেলার নন্নী বাজার পর্যন্ত লোকাল বাসে জন প্রতি ২০ টাকায় যাওয়া যাবে। এছাড়া ঢাকা মহাখালি থেকে সরাসরি নালিতাবাড়িতেও কিছু বাস সার্ভিস রয়েছে। সেসব সার্ভিসে চড়ে শেরপুর জেলা শহরে না এসে সরাসরি নালিতাবাড়ি উপজেলা মহরে নামতে পারেন। এরপর নালিতাবাড়ি শহর থেকে মধুটিলা ইকো পার্ক পর্যন্ত রিক্সা বা ব্যাটারি ও সিএনজি চালিত অটোরিকশায় যাওয়া যাবে। এতে জনপ্রতি ২৫ টাকা থেকে ৩০ টাকা এবং রিজার্ভ ভাড়া নেবে ১২০ থেকে ১৫০ টাকা। এ ছাড়া শেরপুর জেলা শহর থেকে ভাড়ায় চালিত সিএনজি অটোরিকশা অথবা মাইক্রোবাস ভাড়া করেও ইকো পার্কে যাওয়া যাবে। দিন চুক্তি ভাড়া নেবে ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত। এ ছাড়া মধুটিলা ইকোপার্ক থেকে ভোর ৬ টায় প্রতিদিন ঢাকার মিরপুর পর্যন্ত এবং মিরপুর থেকে প্রতিদিন বেলা ২টায় ইকোপার্ক পর্যন্ত যাতায়াত করছে। আর যারা ঢাকা থেকে নিজস্ব গাড়িতে আসতে চান তারা ময়মনসিংহ পার হয়ে সরাসরি শেরপুরের নকলা উপজেলা থেকে শেরপুর জেলা সদরে না এসে নালিতাবাড়ি উপজেলা হয়ে মধুটিলা যাওয়া যাবে।
Garo hills3
তারানি পানিহাতা
জেলার নালিতাবাড়ি উপজেলার সীমান্তবর্তী তারানি এলাকায় মনোরম দৃশ্যের তারানি পাহাড় ও পাহাড় সংলগ্ন নদীকে ঘিরে গড়ে উঠছে পিকনিক স্পট। এখানে প্রতিবছর শীত মৌসুমে শত শত ভ্রমন পিপাসুরা বেড়াতে আসে। তবে এখানে সরকারী বা বেসরকারী ভাবে কোন অবকাঠামো গড়ে উঠেনি এবং এখানে যাওয়ার জন্য প্রসস্থ রাস্তা নেই। ফলে ওই স্পটে মোটর সাইকেল এবং মাইক্রোবাস বা প্রাইভেটকার ছাড়া যাওয়া খুবই দুস্কর। তবে কষ্ট করে একবার যেতে পারলে সব কষ্ট ও ক্লান্তি মিটে যাবে তারানি পাহাড় আর নদীর মনমুগ্ধকর সৌন্দর্য উপভোগ করার পর।

সেখানে গেলে দেখতে পাবেন উত্তরে ভারতের তুরা পাহাড়কে আবছা আবরণে ঢেকে আছে মেঘ-কুয়াশা। দূরের টিলাগুলো মেঘের সাথে লুকোচুরি খেলছে যেন। তুরার অববাহিকা থেকে সামনে সোজা এসে পশ্চিমে চলে গেছে পাহাড়ি নদী ভোগাই। নদীর একপাশে শত ফুট উঁচু দাঁড়িয়ে থাকা সবুজে জড়ানো পাহাড়। নদীর টলটলে পানির নিচে নুড়ি পাথরগুলো ঝিকিমিকি করছে। সামনের একশ গজ দূরে ভারত অংশে আকাবাঁকা রাস্তা দিয়ে পূর্ব থেকে পশ্চিমে মাঝেমধ্যেই হুসহাস করে ছুটে চলছে মালবাহী ট্রাকগুলো। চতূর্দিকে ছোট ছোট অসংখ্য পাহাড়ের সাড়ি। পাশেই খ্রিষ্টানদের উপাসনালয়, ছোট একটি চিকিৎসা কেন্দ্র, বিদ্যালয় আর ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের থাকার জন্য হোস্টেল।
Garo hills2
যেভাবে যাবেন
শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলা শহর থেকে প্রায় ১৯ কিলোমিটার এবং শেরপুর জেলা শহর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে সীমান্তবর্তী গারো পাহাড় এলাকার রামচন্দ্রকুড়া ইউনিয়নে অবস্থিত এ স্থানটি। তবে ঢাকা থেকে শেরপুর জেলা শহরে না এসেই নকলা উপজেলা শহর থেকেই নালিতাবাড়ি যাওয়ার সহজ ও কম দুরত্বের রাস্তা রয়েছে। এরপর নালিতাবাড়ি  শহরের গড়কান্দা চৌরাস্তা মোড় হয়ে সোজা উত্তরে প্রথমে নাকুগাঁও স্থল বন্দরের কাছাকাছি গিয়ে পূর্ব দিকটায় মোড় নিয়ে ভোগাই ব্রিজ পাড়ি দিতে হয়। এরপর সোজা পূর্ব দিকে প্রায় আড়াই থেকে তিন কিলোমিটার গেলে চায়না মোড়। এ মোড়ে এসে আবারও গতিপথ বদলে যেতে হয় উত্তরে। উত্তরের এ রাস্তা ধরে প্রায় এক কিলোমিটার গেলেই পানিহাটা-তারানির মূল পয়েন্ট। ব্যক্তিগত উদ্যোগে রিকশা, সিএনজি অটোরিশা বা ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেলেও যাওয়া যায় নালিতাবাড়ী শহর থেকে মাত্র ৩৫-৪৫ মিনিটের ব্যবধানে এবং অল্প খরচের মধ্যেই। এতে মোটরসাইকেল ভাড়া আসা যাওয়ায় প্রায় দেড়শ টাকার মতো লাগতে পারে।

কোথায় থাকবেন
কেউ যদি বেড়াতে এসে জেলার উল্লেখিত স্থানগুলো ঘুরে ঘুরে বা বিশ্রাম নিয়ে দেখতে চান এবং রাত্রি যাবন করতে চান তবে শেরপুর জেলা সদরেই থাকতে হবে। কারন সীমান্তবর্তী গারো পাহাড়  এলাকার কোন স্পটেই রাত্রী যাপনের কোন ব্যাবস্থা বা অনুমতি নেই। এছাড়া উল্লেখিত স্থানগুলোতে এমনকি ঝিনাইগাতী, নালিতাবাড়ি, শ্রীবর্দী উপজেলা সদরে রাত্রি যাপন করার মতো কোন আবাসিক হোটেল নেই। শেরপুর জেলা শহরে হাতে গোনা দুই তিন টি ভাল মানের আবাসিক হোটেল ছাড়াও ভিআইপিদের জন্য জেলা সার্কিট হাউজ, জেলা পরিষদ ও এলজিইডি’র রেস্ট হাউজ রয়েছে। সেগুলোতে রাত্রি যাপন বা রেস্ট নিতে গেলে সংশ্লিষ্ট অফিসে অগ্রিম বুকিং দিতে হবে। জেলা পরিষদের রেস্ট হাউজের প্রতি কক্ষ এক রাতের জন্য ভাড়া ৫০ টাকা, এলজিইডি’র প্রতি কক্ষ ৫০ থেকে ১০০ টাকা এবং সার্কিট হাউজের প্রতি কক্ষ ৪০০ টাকা ভাড়া নেওয়া হয়। তবে ওই রেস্ট হাউজে সরকারী কর্মকর্তাদের নাম মাত্র ২০ থেকে ৫০ টাকা দিয়ে রাত্রী যাপন করতে পারবেন। এছাড়া শহরের আবাসিক হোটেল গুলোর মধ্যে হচ্ছে হোটল সম্পদ, হোটেল বাগান বাড়ি ও কাকলি গেস্ট হাউজ অন্যতম। এসব হোটেলের রুম ভাড়া ৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত। তবে এসি রুমের ভাড়া ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত।
Garo hills4
কোথায় খাবেন
সীমান্ত এলাকায় ভালো মানের কোনো খাবার হোটেল নেই। তবে  শেরপুর জেলা শহরে ভালো মানের খাবার হোটেল রয়েছে হাতে গোনা ৩ থেকে ৫ টি। এর মধ্যে হোটেল শাহজাহান, আহার ও আলিশান । জেলার বাইরে থেকে এই সীমান্ত এলাকার গারো পাহাড়ে বেড়াতে এসে রান্না-বান্নার ব্যবস্থা না করতে পারলে শহরের ওইসব খাবার হোটেল থেকে খাবারের জন্য অগ্রিম বুকিং দিলে প্যাকেট সরবরাহ করা হয়।

এ ছাড়াও আরও আছে
উল্লেখিত মনোরম দৃশ্যের দর্শনীয় স্থান ছাড়াও জেলার নালিতাবাড়ি উপজেলার বারোমারি এলাকায় ১৯৯৮ সালে পর্তুগালের বেথেলহাম বা  ফাতেমা নগরের আদলে ও অনুকরণে তৈরি করা উপজেলার বারমারী সাধুলিওর খ্রিস্টধর্মপল্লীতে ফাতেমা রাণীর তীর্থ স্থান, ঝিনাইগাতী উপজেলার মরিয়মনগর ‘খ্রিস্টান ধর্মপল্লী’ এবং সীমান্তবর্তী সন্ধ্যাকুড়া রাবার বাগান, শ্রবরর্দী উপজেলার সীমান্তবর্তী কর্ণঝোড়া এলাকায় দর্শনীয় ‘রাজা পাহাড়’, একই উপজেলার সীমান্তবর্তী বাবলাকোনা মনোরম ‘খ্রিস্টান ধর্মপল্লী’ এবং স্থানীয় আদিবাসীর মিনি মিউজিয়ামে ঘুরে আসতে পারেন। ওইসব স্থানে শেরপুর জেলা শহর থেকে বিভিন্নভাবে যাওয়া যায়। লোকাল বাসে, মাইক্রো অথবা সিএনজি অটোরিকশা ভাড়া করে যেতে পারেন। যদি নিজেদের প্রাইভেট কার নিয়ে আসেন তবে তো আর কথাই নেই শহরের যেকোনো প্রান্তে এসে আপনার পছন্দের স্থানের কথা যেকোনো শহরবাসীকে বললেই আপনার পথ দেখিয়ে দিবে। আর যদি শেরপুর জেলায় আপনার কোনো আত্মীয়স্বজন বা বন্ধু-বান্ধব থাকে তবে চিন্তা কী আর! বেরিয়ে পড়ুন শেরপুরের মনোরম গারো পাহাড়ের নৈসর্গিক প্রকৃতিক দৃশ্য দেখতে।